নৈতিকতা বিবর্জিত শিক্ষাই সার্বিক অবক্ষয়ের মূল কারণ - Etikathon

Etikathon

দেশ ও সমাজ : আমার চিন্তার বহি:প্রকাশ

Etikathon

test banner

Post Title

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

শনিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

নৈতিকতা বিবর্জিত শিক্ষাই সার্বিক অবক্ষয়ের মূল কারণ

মানব জীবনে শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। শিক্ষার উপর ভিত্তি করেই রচিত হয় গোটা জাতিসত্তার কাঠামো, জাতীয় আশা-আকাক্ষার পূরণ। জাতীয় আদর্শের ভিত্তিতে চরিত্র গঠন জীবনের সকল ক্ষেত্রে সকল বিভাগে নেতৃত্বদানের উপযোগী ব্যক্তিত্ব সৃষ্টি শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্ভব জাতীয় ঐক্য সংহতির প্রধান উপকরণ। অথচ আমাদের দেশের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। জাতিকে প্রকৃত উন্নতির পথে পরিচালিত করার ব্যাপারে শিক্ষাব্যবস্থা চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। পশুর শিক্ষার প্রয়োজন হয় না। পশু প্রকৃতিগতভাবে জগতে জীবনযাপন করতে পারে। শিক্ষার প্রয়োজন মানুষের। মানব শিশুকে শিক্ষা দিলে বা নিষেধ করলে নিষিদ্ধ পদার্থ ধরে না বা খায় না। মানুষের আর্থ-সামাজিক সাংস্কৃতিক রাজনৈতিক রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে। যেমন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়| ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থার আদর্শিক দৈন্যতা শিক্ষাহীনতা আমাদের জাতীয় জীবনে সৃষ্টি করছে আদর্শিক শূন্যতা। সৃষ্টি করেছে নৈতিক দুর্বলতা, জন্ম দিয়েছে পরস্পর বিরোধী নেতৃত্বের। শিক্ষিতের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা রুচি বিকৃতি। সময় এসেছে আর দেরী না করে অনৈসলামিক শিক্ষার মূলে কুঠারাগাত করে ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়নের।

শিক্ষা শব্দ বলতে আমরা বুঝি লালন-পালন করা। ইংরেজীতে একে Education বলে। আর Education শব্দটি ল্যাটিন শব্দ হতে এসেছে যার অর্থ মানব শিশুকে শারীরিক মানসিক এবং চরিত্রগত তারবিয়াত দান করা। আরবী ভাষায় শিক্ষা বলতে বুঝায়। তালীম যার মূল, শিক্ষা গ্রহণ করা বা শিক্ষা গ্রহণে অন্যকে সাহায্য করা। পারিভাষিক দিক দিয়ে শিক্ষা বলতে বুঝায় শিশুর বয়:প্রাপ্তির সাথে সাথে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে সক্ষম হওয়া। শিক্ষার সঙ্গে সম্পর্কে বিভিন্ন মনীষী বিভিন্ন মতামত দিয়েছেন। যেমন মহাকবি মিন্টন বলেন Education is the harmonious development of body mind and soul। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ তার শেষের কবিতায় শিক্ষাকে তুলনা করেছেন পরশ পাথরের সাথে। তার চিন্তায় শিক্ষা হলো পরশ পাথর, তার থেকে ছিটকে পড়া আলোটাই কালচার।

ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা বলতে আমরা বুঝি যে শিক্ষা ব্যবস্থায় ইসলামকে একটা পরিপূর্ণ জীবনাদর্শ হিসাবে শিক্ষা দেওয়ার বন্দোবস্ত থাকে। তাই ইসলামী শিক্ষার এর বিপরীতে যে শিক্ষাব্যবস্থা থাকে তাকেই আমরা অনৈসলামিক শিক্ষা ব্যবস্থা বলতে পারি। আর ইসলামী শিক্ষা লাভের ফলে শিক্ষার্থীদের মন, মগজ, চরিত্র এমনভাবে গড়ে উঠে যাতে ইলামের আদর্শে একটা রাষ্ট্র পরিচালনা করার যোগ্যতা সৃষ্টি হয়। আর যারা মানুষকে আত্মাবিহীন জড় পদার্থ মনে করেন তারা শিক্ষাব্যবস্থা তৈরী করার সময় বস্তুগত প্রয়োজনের দিকে খেয়াল রাখেন। তারা প্রাশ্চাত্য সভ্যতা ধর্মনিরপেক্ষ খোদাবিমুখ বলে তাদের পক্ষে মানুষকে আত্মাপ্রধান হিসেবে চিনবার উপায় থাকে না। শিক্ষা মুনষ্যত্বের বিকাশ সাধনে অসম্ভব। যে শিক্ষা মানুষের আত্মা দেহকে একসুন্দর সামঞ্জস্যময় পরিণতিতে পৈৗঁছিয়ে জগতের নৈতিক সীমার মধ্যে উপভোগ করার যোগ্যতা দান করে সে শিক্ষাই মানুষের প্রকৃত শিক্ষা। শিক্ষা ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মানুষ তার ইহলৌকিক পারলোকির সর্বক্ষেত্রেই সাহায্য গ্রহণ করবে। যুগে যুগে মনুষ্যবোধ শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য হিসাবে গণ্য হতো। বর্তমান বৈজ্ঞানিক যুগে নিত্য নতুন ঋণাত্মক মারাত্মক অস্ত্রের আবিষ্কার মানবজাতিকে ভীতবিহ্বল করে ফেলেছে। কোন জাতি শিক্ষার ক্ষেত্রে ধর্মকে গুরুত্ব দেয় আবার কেহ কেহ নিজস্ব মতবাদের উপর অধিক গুরুত্ব দেয়। কিন্তু আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় কিসের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয় তা বলা মুসকিল। 

তবে সাধারণত শিক্ষার উদ্দেশ্য নির্ধারণে ধর্মীয় আকীদাহ, রাজনৈতিক আদর্শ এবং সামাজিক, অর্থনৈতিক অবস্থার প্রতি গুরুত্ব দেয়া হয়ে থাকে। সমাজতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রত্যেকের আলাদা আলাদা উদ্দেশ্য রয়েছে। যেমন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে শিক্ষার উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছে ব্যক্তি স্বাধীনতাদান এবং জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে সমতা দান। পক্ষান্তরে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো রাষ্ট্রের মঙ্গলসাধন। অপর পক্ষে ইসলামী রাষ্ট্রের শিক্ষার উদ্দেশ্যসমূহের মধ্যে রয়েছে ইসলামী আকীদাহ মূল্যবোধ ব্যক্তি স্বাধীনতা সামজের মঙ্গলসাধন ইত্যাদি। অন্যদিকে নৈতিকতা মহান আল্লাহ তায়ালার দান। প্রত্যেক মানুষকে কম-বেশি বিবেক বুদ্ধি বিশ্লেষণ ক্ষমতা দিয়েছেন যার মাধ্যমে সে ভাল-মন্দ,-ন্যায়-অন্যায়,হারাম-হালাল,জায়েজ-নাজায়েজ ইত্যাদি বিচার-বিবেচনা করে পার্থক্য নির্ণয় করতে পারে। আর এই গুণাবলীকেই নৈতিকতা বলে। নৈতিকতা বিবর্জিত মানুষ অত্যন্ত জঘন্য নিকৃষ্ট প্রকৃতির হয়ে থাকে। তার কাছে ভাল-মন্দ- হালাল-হারামের কোন পার্থক্য থাকে না। একমাত্র ইসলামী শিক্ষাই দ্বীন, দুনিয়া নৈতিকতার প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম। অন্যথা জাতির নৈতিকতার অধ:পতন ঠেকানো আদৌ সম্ভব নয়। যে শিক্ষা ব্যবস্থার মূলে থাকে উহা দ্বারা কোন ধরনের মানুষ গঠন করা হবে। 

আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাটি ইংরেজ শাসকদের অবদান। সুতরাং ইসলামী আদর্শের লোক তৈরী করা ইংরেজদের উদ্দেশ্য নয় বরং তাদের এমন কিছু লোক তৈরী উদ্দেশ্য যে লোকগুলো তাদের শাসন জারি রাখতে সাহায্য করবে যাতে করে ইংরেজদের আদব-কায়দাহ, চাল-চলন, রীতি-নীতি অনুসরণ অনুকরণ করতে সহায়ক হয়। ইংরেজদের প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে অধিকতর উন্নত করার চেষ্টা চলছে। দর্শন, বিজ্ঞান, অংক, রাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি, ইতিহাস, ভূগোল এতো সব সাবজেকটের সাথে ১০০ নাম্বারের দ্বীনিয়াত। আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থায় পার্থিব সকল শাস্ত্র এমনভাবে পড়ানো হয় এবং বাস্তব প্রয়োগ করে দেখানো হয় যে বিশাল বিশ্বের কোন স্রষ্টাই নেই। এটা নিজে নিজে চলছে। ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থায় ধর্মকে ছোট মনে করা, ধর্মকে অবৈজ্ঞানিক অযৌক্তিক অপ্রয়োজনীয় বলে বিশ্বাস করা অত্যন্ত স্বাভাবিক। বর্তমানে মাদ্রাসা শিক্ষার মাধ্যমে যে ধরনের শিক্ষা দেয়া হয় তাতে ইসলামের প্রাথমিক জ্ঞানটুকুও চর্চা হয় না। ইসলামকে একটি অনুষ্ঠান সর্বস্ব ধর্ম হিসেবে শিক্ষা করার নাম ইসলামী শিক্ষা বলা উচিত নয়। ইসলামী শিক্ষা বলতে জৈৱান, হাদীস, ইমামগণের প্রণীত পুস্তকানী শরীয়াহ সংক্রান্ত বিভিন্ন কিতাবাদী ইসলামী চিন্তাবিত খ্যাতনামা লেখকগণের সে লেখা পড়ানোই না ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে যা চালু হয়েছে তাও পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যবস্থা নেই। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়াহ ফ্যাকাল্টির শ্রদ্ধেয় শিক্ষক মহোদয় বলতে বাধ্য হবেন তাদের ছাত্ররা প্রকৃত পক্ষে কোরআন, হাদীস সম্পর্কে জ্ঞানবান হইতে পারছে না। এর জন্য দায়ী কারা ছাত্র,শিক্ষক না দেশের শিক্ষাব্যবস্থা। 

ইসলাম একটি জীবন দর্শন জীবন বিধান মানব জীবনের সামগ্রিক দিক বিভাগের জন্য এর দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। মোট কথা যে শিক্ষা ব্যবস্থায় রয়েছে মুসলিম দার্শনিক, মুসলিম শাসক, মুসলিম বিচারক মুসলিম অর্থনীতিবিদ মুসলিম সেনাপতি ইত্যাদি। নৈতিকতার অধঃপতন যদি রোধ করতে হলে ইসলামী শিক্ষার বিকল্প নেই। ইসলামী শিক্ষা যার কাছে নেই তিনি যতোই পণ্ডিত বলে নিজেকে মনে করুন না কেন আসলে তিনি মূর্খ। শিশুকালে একটা মানুষের অন্তরে জ্ঞান গ্রহণের ক্ষমতা থাকে নরম কাদামাটির মতো একে যেভাবে তৈরী করা হয় সেভাবে তৈরী হয়। শিশুকালে অন্যান্য শিক্ষার সাথে ধর্মীয় শিক্ষা দেয়া জরুরী নয় অপরিহার্য কারণ নৈতিক মূল্যবোধ শিক্ষার মধ্যে নিহিত। ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত ব্যক্তি বা যুবক কোনো অন্যায় বা অপরাধ, করতে গেলে তার অন্তরে আল্লাহ ভীতি তাকে কাজ হতে বিরত রাখে। ইসলামী শিক্ষার কারণে তার অন্তরে নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত হয়। বর্তমানে ইসলাম বিমুখ শিক্ষা ব্যবস্থা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে, ধর্মের পথ থেকে বিচ্যুৎ করে ফেলার কারণে মানুষের মনে আল্লাহ ভীতি নেই, নেই নৈতিকতা আর যার ভিতর আল্লাহ ভীতি নেই তার ভিতর নীতি নৈতিকতাও নেই। প্রাশ্চাত্য জগতের কৃষ্টি কালচার আমাদেরকে গ্রাস করে ফেলেছে। রেডিও টিভির মাধ্যমে পাশ্চাত্যের বেহায়াপনা প্রচার করে আমাদের যুব সমাজকে নীতি নৈতিকতার অধঃপতন ঘটিয়ে জাহান্নামের সীমানায় পাঠিয়ে দিচ্ছে সমস্ত অনৈতিকতার কারণ অনৈসলামিক শিক্ষা। অনৈতিকতার রাহু গ্রাস থেকে জাতিকে উদ্ধার করতে হলে ইসলামী জ্ঞান তথা ইসলামী শিক্ষার বাস্তবায়ন প্রয়োজন। একটা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা হওয়ার কথা সে দেশের কৃষ্টি কালচার অধিকাংশ জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় অনুভূতির দিক বিবেচনা করে। 

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা কিরূপ হবে তার ফয়সালা আন্তর্জাতিক ইসলামী সংস্থা OIC দিয়েছে। OIC ইসলামী শিক্ষা সম্বলিত একটি শিক্ষানীতি প্রস্তাব পাশ করে। OIC এর বিভিন্ন সদস্য দেশে প্রচলিত দ্বিমুখী শিক্ষাব্যবস্থার বিলুপ্তি সাধন করে তদস্থলে একমুখী শিক্ষানীতির প্রস্তাব করা হয়। কিছু কিছু দেশ OIC এর সুপারিশমালা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করলেও বাংলাদেশের সরকার কোনো অজ্ঞাত কারণে তা বাস্তবায়ন করছে না যদ্দরুন বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা কিরূপ হবে তা নিয়ে এখনও বিতর্ক বিদ্যমান।সরকার একটা শিক্ষনীতি চালু করতে যাচ্ছে যা বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীরা আদর্শিকভাবে পঙ্গু হয়ে যাবে। ধর্মীয় দিক থেকে হবে চরম ধর্মহীনতা চারিত্রিকভাবে হবে দেউলিয়াপনা।

শেখ মুজিবুর রহমান এক নাস্তিক্যবাদী মুরতাদ কুদরতে খুদা শিক্ষা কমিশন ১৯৭৩ সালে বাস্তবায়িত করতে চেয়েছিলেন। আনসার কমিশন, কখনো মজিদ খান কমিশন ইত্যাদি নাম দিয়ে ইসলামী শিক্ষাকে সংকোচন করে আঠার কোটি মানুষকে নৈতিকতাহীন শিক্ষাব্যবস্থা এজাতির ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে চেয়েছিল। সরকার তথাকথিত গণতন্ত্রের মানসকন্যা আঠার কোটি মুসলমানের দেশে কুদরতে খুদা কমিশন রিপোর্টকে নাম পরিবর্তন করে সামছুল হক শিক্ষানীতি নাম দিয়ে বিজাতীয় ধর্মহীন নৈতিকতাহীন শিক্ষাকে জাতির ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা চালিয়েছিল। আবার মুনতাসির মামুনরা বলে একুশ শতকের মাদ্রাসা শিক্ষা একটা দেশকে সে এগিয়ে নিতে পারে না। মুনতাসির মামুনদের জন্য করুণা হয়। কারণ আল্লাহ বলেছেন, 'আল্লাহ তাদের অন্তরে শ্রবণ শক্তির উপর মোহরাজিত করেছেন আর দৃষ্টি শক্তিকে পর্দা দিয়ে ঢেকে দিয়েছেন। মুনতাসির মামুনরা তো আবার বেশী বোঝেন এখানে আল্লাহর দোষ দিয়ে বসে থাকবেন। তাহলে আল্লাহ তো সবকিছু করছেন আমাদের দোষ কোথায়। এখানে আল্লাহ বুঝাতে চেয়েছেন তারা তাদের কৃতকর্মের কারণে সত্য পথে ফিরে আসতে পারবে না 'এটা আল্লাহ পাক আগেই জানেন। 

বর্তমান সরকার আবার নতুন করে শিক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজিয়েছে। তাতে তারা এখন ডারউইন তত্ত্ববাদ প্রতিষ্ঠার করতে চাচ্ছে। তাছাড়া পশ্চিমাদের বস্তাপঁচা শিক্ষানীতি চালুর পায়তার করছে। যা ইতিমধ্যে কিছুটা সফলও হয়েছে। এখন তার শিক্ষায় ট্রান্সজেন্ডার মতবাদ শিক্ষা দিচ্ছে। এছাড়াও অবাধ যৌনাচার শিক্ষা দিচ্ছে কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের। যার মাধ্যমে দেশ, সমাজ, জাতি ধর্মীয় ও নৈতিক দিক দিয়ে অধ:পতনের নিম্নপঙ্কে পৌছে যাবে এই জাতি। 

মাদ্রাসা শিক্ষা মানে ধর্মীয় শিক্ষা। ধর্মীয় শিক্ষা ছাড়া মুসলমানদের ঈমান আকিদা নৈতিক চরিত্র কখনো গঠন হতে পারে না। ড: মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ আমাদের শিক্ষানীতি সংস্কৃতি নামে তার একটি প্রবন্ধে ট্যানিল পুলের একটি বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন যারা ধর্মের বিরোধিতা করে অর্থাৎ ইসলামী শিক্ষার বিরোধিতা করে তারা বদমায়েশ If you teach your children the three Rs Reading writing and Arithmetic and leave the fourth R of Religion you will get a fifth R of rascality স্ট্যানিল পুলের বক্তব্য আর আমাদের সমাজ বাস্তবতার মিল রয়েছে আমার দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ধর্ষণের সেঞ্চুরী পালন হয়। আমরা জ্ঞানী গুণী বুদ্ধিজীবী নীতি নির্ধারকরা এগুলো দেখে মুসকি হাসে সম্ভবত মনে মনে বলে এতো দিনে আমরা পশ্চিমা সংস্কৃতি ব্লঙ করতে পেরেছি। এখন জাতীয় ভাগ্যাকাশে হায়ে না শকুনীদের অপচ্ছায়া পড়েছে মার্কসের পতাকাতলে ভারুণা বিপথগামী নৈরাশ্যের গোলক ধাঁ ধাঁয়। নেশা আক্রান্ত যুব শক্তি নিদারুণ অবক্ষয়ের অক্টোপাশে বন্দী। সন্ত্রাসী দৈত্য তার দ্ধতা নির্মম বিস্তার করে মনুষ্য শান্তি কেড়ে নিচ্ছে। সর্বত্র নৈরাজ্যের অঞ্চল এক বিভীষিকাময় গ্রাস। রাষ্ট্রীয় মেরুদণ্ড চলৎ শক্তিহীন থাকায় স্বৈরাচারের রাহু মানবাধিকারের গণ্ডদেশে অহর্নিশ চপেটাঘাত করছে। 

ইসলামই বিপন্ন মানবতার একমাত্র ভরসা। জাতির এমনি একটি মোর মূর্দিকে ধর্মীয় চেতনা মূল্যবোধের অনুসরণ ব্যাতীত ব্যক্তি সমাজ নীতি, নৈতিকতা নিশ্চিত করা অসম্ভব। এই অবস্থায় সরকারী-বেসরকারীসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একই কারিকুলামের আওতায় পর্যায়ক্রমে ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে হবে। তা না হলে দেশ জাতিকে নৈতিকতার অধ:পতন থেকে রক্ষা করা যাবে না।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here