ছাত্র শিবিরের ৪৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী - Etikathon

Etikathon

দেশ ও সমাজ : আমার চিন্তার বহি:প্রকাশ

Etikathon

test banner

Post Title

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

বুধবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

ছাত্র শিবিরের ৪৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী

বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতির এক গৌরবময় অধ্যায় ছিলো। কিন্তু আজ এই ছাত্র রাজনীতির গৌরব গাথা ইতিহাসকে ম্লান করে দিয়েছে সন্ত্রাস, খুন, চাঁদাবাজী, রাহাজানী, টেন্ডার বক্স চিনতাই, ধর্ষণ নামক মহাব্যাধী। জননী জন্ম ভূমির ডাকে দেশের মূল চালিকা শক্তি ছাত্র ও যুব সমাজ। এই ছাত্র ও যুব সমাজ ৭ এর দেশভাগ ৫২ এর ভাষা আন্দোলন ৬৯ এর দুর্বার গণ আন্দোলন ৭১ এর মুক্তি সংগ্রাম এবং ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো এই যুব শক্তি। কিন্তু আজ এই ছাত্র রাজনীতিকে এই জাতি ঘৃণাবরে প্রত্যাখান করছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ মার্ডারের মাধ্যমে যে হত্যা কান্ডের সুচনা হয়েছে তা আজ ও বিদ্যমান। বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং শিক্ষা ব্যবস্থায়  চলছে এক ভয়াবহ সংকট ও নৈরাজ্য। আকাশচুম্বী দ্রব্যমূল্য, চরম খাদ্রাভাব, মুদ্রাস্প্রীতি, শিল্প ক্ষেত্রে হতাশা, কৃষকের উপায় উপকরণে সীমাবদ্ধতা, সুদ ভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা, বেকার সমস্যা, ধনী দরিদ্রের ব্যবধান, বৈদেশিক ঋণভার, টাকা পাচার আমাদের অর্থনৈতিক জীবনকে দুবির্ষহ করে তুলছে। দুর্নীতি, ঘুষ, অসাধুতা, জাতীয় অস্তিত্বের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নৈতিকতাহীনতা, নগ্নতা, বেহায়াপনা, পাশবিক পাশ্চাত্য উল্লাস এবং অন্ধ অনুকরণ বিজাতীয় অনুপ্রবেশ আমাদের জনগণের ঐতিহ্য লালিত সাংস্কৃতিক চেতনার উপর চরম আঘাত হেনেছে।

বিশ্বব্যাপী যুগ যুগ ধরে মানুষ তার নিজের তৈরী মতার্দশের ভিত্তিতে সমস্যা সমাধানের ব্যর্থ প্রয়াস চালিয়েছে। পতনোন্মুথ পুঁজিবাদ ও ক্ষুয়িষ্ণু সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার দেওলিয়াপনা থেকেই তা প্রমাণিত। বৃহৎ শক্তির রাজনৈতিক সংঘাতের শিকার নির্যাতিত নীপিড়ীত মানবতার আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে আজ পৃথিবীতে। ফিলিস্তিন, কাশ্মীর নারী, শিশু ও বৃদ্ধার আত্মচিৎকারে আকাশ বাতাশ ভারি হয়ে আসছে। প্রতিনিয়ত টনকে টন বোমা ফেলা হচ্ছে অসহায় ও মজলুম মানবতার উপর। পৃথিবী বাসি চেয়ে চেয়ে দেখছে ফিলিস্তিনের ধুনি কনায় শিশুর রক্ত ও নিথর দেহ। তাই আজ বিশ্বমানবতাকে ফিরে আনতে হবে মানুষের প্রভু মহান আল্লাহর পথে এবং মুহাম্মাদ (সা:) এর পদাংক অনুসরণ করে এ পথের যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির। 

আজ আমাদের প্রধান সমস্যা আদর্শহীনতা ও চরিত্রবান শক্তির অভাব। মরু আরবের বর্বর বেদুঈনরা ঈমানী শক্তি ও ইসলামী আর্দশের ভিত্তিতেই মানবতাকে শ্রেষ্ট সভ্যতা উপহার দিতে পেরেছিলো এবং আজকের পরাশক্তি তুলনীয় রোম ও পারস্য সাম্রাজ্যকে পরাজিত করতে পেরেছিলো। আমরা বাংলাদেশের শতকরা ৯০% তৌহিদীজনতা নিজেদের আদর্শবাদ দিয়ে এখনো বস্তুুবাদী সমাজ কায়েম রাখছি অথচ এ বস্তুুবাদের বিষবাষ্পে গোটা পাশ্চাত্য সমাজ বিধ্বস্ত। তাই আজ আমাদের যে সমস্ত মোনাফেকী ত্যাগ করে জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে ইসলামী আর্দশকে প্রতিষ্ঠিত করতে সার্বিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। ইসলাম সত্যিকার ভাবে বিশ্লেষাত্নক বিধি-ব্যবস্থা। ইসলাম বিজ্ঞান ভিত্তিক জীবন ব্যবস্থা। ইসলাম আর্দশ এবং উদার নৈতিক কল্যাণকর সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা। ইসলামের দৃষ্টি ভঙ্গি ন্যায় পরায়নতা সততা এবং দয়া প্রতিটি মানুষ উল্লেখিত গুনাবলির সাহার্যে হয়ে উঠতে পারে শ্রেষ্ট জাতি এবং সৃষ্টির সেরা আশরাফুল মাখলুকাত।

আসুন ইসলামকে প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ছাত্র শিবিরের পতাকা তুলে সমবেত হই। দেশের ক্রমবর্ধমান তারুণ্যের অবক্ষয়ের মাঝে ও সমাজ গঠনের জন্য একদল টগবগে তরুণ আজ যে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে তা সত্যিই অবিশ্বাষ্য। ক্ষুধা, দারিদ্র, সন্ত্রাস আর দুর্নীতির আকন্ঠে নিমজ্জিত জাতির সামনে ইসলামী ছাত্র শিবির আজ এক উজ্জল আলোর মশাল। যেখানে সমাজও দিক নিদের্শনা দিতে পারছেনা। দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্রের ও অপসংস্কৃতির প্রভাবে ছাত্ররা জাতির কলংকময় অধ্য়ায় রচনা করছে। দখল বেদখল আর অপরাজনীতির সর্বনাশা ছোবলে জড়িয়ে পড়ছে কোমলমতি জাতির ভবিষ্যৎ কর্নধারগণ। সেক্ষেত্রে সকল বাধা বিপত্তি ষড়যন্ত্র ডিঙ্গিয়ে ত্যাগ ও কুরবানীর রক্ত সাগর পেরিয়ে ইসলামী ছাত্র শিবির সার্বজনিন শ্রেষ্ঠ আদর্শ ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার যে আর্দশিক জোয়ার সৃস্টি করেছে তা হতাশা গ্রস্থ বাংলার মানুষ ও ছাত্র সমাজকে নতুন করে পথ চলার অনুপ্রেরণা জাগিয়েছে।

১৯৭ সালের  ই ফেব্রুয়ারী ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে এক সোনা ঝরা সকালে আলোক ঝল মলিয়ে হিরন্বয় কিরণচ্ছটায় দ্যোতির আভা ছড়িয়ে উদয়ের আবাহনী সংগীত গেয়ে কালের দামাল নকীবদের বজ্রনিঘোর্ষ শপথ উচ্চারিত হয়। তখন জাতীর ভাগ্যাকাশে হায়েনা শকুনীদের অপচ্ছায়া পড়েছিলো সাকর্সের পতাকা তলে তারুণ্য বিপথগামী হয়েছিল। নৈরাশ্যের গোলক ধাঁধায় নেশা আক্রান্ত যুব শক্তি নিদারুন অবক্ষয়ের অক্টোপাসে হামাগুড়ি খাচ্ছিল সন্ত্রাস দৈত্য তার উদ্ধত নির্মম থাবা বিস্তার করে মনুষ্য শান্তি কেড়ে নিয়েছিল সর্বত্র নৈরাজ্যের অমল এক বিভাীষিকায় ত্রাস দগ্ধ ভৌতিক ফনা উন্মুখ হয়েছিল রাষ্ট্রীয় মেরুদন্ড চলৎশক্তিহীন থাকায় স্বৈরাচারের রাহু মানবাধিকারের গন্ডদেশে অহনির্শ চপোটাঘাত হানছিল জাতির এমনি এক ঘোর দুর্দিনে অনিবার্য সন্ধিক্ষনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির নামে এই সংগঠনটি বাংলার ৮ কোটি জনতার মালসপটে মরুউষ্ণনতায় অবসান ঘটিয়ে এক ফোঁটা বৃষ্টির মতই আশার সঞ্চার করেছিলো। হাটি হাটি পা পা করে দীর্ঘ চড়াই উতরাই আর বাধার বিন্ধাচল নিষ্ঠর কদমে মাড়িয়ে এই সংগঠনটি আজ যেন কালের মহীরুহ রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস অপপ্রচার নির্যাতনের স্টীম রোলার উপেক্ষা করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির  তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে পর্দাপন করেছে। 

স্বাধীনতার ৫২ বছর অতিবাহিত হয়ে গেল। অনেক রক্ত আর জীবনের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার স্বপ্ন সাধ আজ মুড়িয়ে যেতে বসেছে। দেশের জন্য কারও যেন দরদ নেই। নিরন্ন বিবস্ত্র অনশন ক্লিষ্ট মানুষের আহাজারী শুনি। মেধা শুন্য সন্ত্রাস, চাদাবাজি, রাহাজানী, ধর্ষণ নির্ভর রাজনীতি আমাদের প্রগতির সমৃদ্ধির পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানব রচিত কোন মতাদর্শই মানবতার মুক্তির আসতে পারে না। যুগের আর্শিবাদ তারুণ্যের কাফেলা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির  তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে দেশের যুব সমাজকে বলতে চাই আসুন আমরা আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে কালেমা খঁচিত পতাকা পত পত করে উড়াই।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here