প্রবীণের ভালবাসা - Etikathon

Etikathon

দেশ ও সমাজ : আমার চিন্তার বহি:প্রকাশ

Etikathon

test banner

Post Title

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

প্রবীণের ভালবাসা

বর্তমান ক্ষয়িঞ্চু অর্থনৈতিক সমাজের প্রেক্ষাপটে পরিবার ছোট হয়ে গেছে অনেক আগেই। এক সময় বাড়ীর জোষ্ঠ্য কর্তাসহ তার ভাই, মা, বাবা, কাকা, জ্যাঠা, নিয়ে এক বিশাল পরিবার, সুখে, দু:খে সংসারটা ছিল এক মিলন কেন্দ্র। ক্ষোভ মনোমালিণ্য যে ছিল না তা নয়। কিন্তু ঝড় ঝাপটা এল বিপদ এল তখন সবাই এক জোট। বিশ্ব যুদ্ধের কঠিন থাকায় পড়ে আর্থিক টানা পোড়নে ক্ষয়ে যাওয়া সামাজিক মূল্যবোধের কারণে পরিবার ছোট হতে থাকে। বর্তমান কালে দেখা যাচ্ছে যার যার সংসার তার তার ভাবণা।

যুগ যন্ত্রণা তো আছেই তার উপর সে সমস্যটা স্পর্ষকাতর সেটা হলো পরিবারের প্রবীণদের নিয়ে। সংসার তো ছোট হল কিন্তু বৃদ্ধ মা-বাবা কোথায় থাকবে কার আশ্রয়ে থাকবে সেটাই হলো বড় সমস্যা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বড় ছেলের কাছেই তার থাকেন। আর যারা স্বাতন্ত্র্য নিয়ে থাকতে চান তারা একাই থাকেন। ছেলে মেয়েরা যার যার সংসার নিয়ে ব্যস্ত। কিন্তু বাধক্যের ভারে যখন তার ন্যুঞ্জ হয়ে পড়েন তখন তাদের অবস্থা ভেবে দেখার বিষয়। কর্তব্য পরায়ন ছেলে বা মেয়ে তখন হয়তো তাদের কাছে নিয়ে রাখেন। অথবা সর্বদা খোঁজ খবর রাখেন। তবে এটাই একমাত্র চিত্র নয়। আজকাল প্রায় পরিবারেই দখো যায় অর্থনৈতিক বা অন্য কোন কারণে অসহায় বৃদ্ধ বাবা মা এক ছেলের কাছে ছয় মাস আরেক ছেলের কাছে ছয় মাস থাকার ব্যবস্থা হচ্ছে। ইদানিং বাবা এক ছেলের কাছে মা আরেক ছেলের কাছে এর উপর ভিত্তি করে আমার দেশে চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়েছে। কি অসহায় চিত্র বার্ধক্যে সারা জীবনের সাথীকে একে অন্যের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে। কবরে যাওয়ার আগেই কি মর্মান্তিক বিলি বন্টন।

আমাদের সমাজে কাব্যে গানে সর্বকালে সর্বত্র কবিকন্ঠে গায়কের গানে মায়ের গুণগানে উচ্চসিত হয়েছে শতধারায়। কবির কন্ঠে ‘মধুর আমার মায়ের হাসি, চাঁদের মুখে ঝরে’। আজ খুব পড়ছে মনে মাকে, মায়ার বাধনে যে মা রেখেছে বেধে আমায়’। অথবা মা বলিতে প্রাণ করে আনচান, এমন একটা মা দেনা যে মায়ের সন্তানেরা কান্দে আবার হাসতে জানে, ইত্যাদি গানের চরণ আমাদের হৃদয়ের উৎস মূলে শিহরণ জাগায়।

মা আর মাতৃভূমি আমাদের সত্ত্বায় একাকার হয়ে মিশে আছে, হিন্দু ধর্মে মাকে তারা দেবীর সাথে তুলনায় করে। আর পিতা মায়ের চেয়েও উচ্চে। নাড়ির বন্ধন মা ও সন্তানের অচ্ছেদ্য বন্ধনের কথা বোঝায়। ১০ মাস ১০দিন  তো মায়ের জঠরেই সন্তান বড় হয়ে ওঠে এ বন্ধন অস্বীকার করার জো নেই। অবাধ্য সন্তান যত অন্যায় করুক মায়ের কাছে ফিরে আসলে মা তার স্নেহাঞ্চলে তার গ্লানিটুকু মুছে দিতে চান, কুপুত্র যদ্যপি, কুমাতা কখনো নয়।

আমাদের ধর্মে বলা হয়েছে মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত। অন্য জায়গায় বলা হয়েছে, মা বাবা হলো সন্তানের জন্য জান্নাত, জাহান্নাম। অথচ আমাদের সমাজে কি এর পূর্ণ মর্যাদা আছে ?  আমাদের সমাজে বা সংসারে মা বঞ্চিত হন সবচেয়ে বেশি, একাধারে মা রাধুনি, সংসার পরিচালিকা, বাচ্চার গর্ভনেস, শিক্ষক, সেবাদাত্রী, অতিথি আপ্যায়নকারী কোন ভূমিকাতে মা নেই ? অথচ তার পরও সন্তান বিপথে গেলে এক চেটিয়া মায়ের দোষ দেন বাপ।

একান্নবতী সংসার আজ নেই বললেই চলে, সময়ের চাহিদার সঙ্গে সঙ্গে সংসার অনেক ছোট হয়ে আসছে। ছেলে মেয়েকে মা বাবা কষ্ট করে বুকের রক্ত দিয়ে মানুষ করেছেন তারা যদি সংসার বা স্থান সংকুলানের অজুহাতে বৃদ্ধ মা বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিযে দায়মুক্ত হতে চান তাদের সম্পর্কে কি বলা যায়। ঘরে ছেলে মেয়ে বউ সবার জন্য খাওয়া জুটতে পারে কিন্তু অসহায় বৃদ্ধ মা বাবার জন্য ভাতের অভাব দারিদ্র এমনই নিষ্ঠর।

বর্তমানে দেখা যাচ্ছে বিত্তবান পিতা মাতা যারা সম্পত্তির মালিক তাদের জীবিত অবস্থাতেই তাদের সম্পত্তি দখল করার এক ধরণের হীন মানসিকতা দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন সময় পত্র পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারা যায় শুধুমাত্র সম্পত্তির জন্য ছেলে মেয়েরা নিজ পিতা মাতাকে হত্যা পর্যন্ত করছে। অথচ নবজাতক শিশুকে বুকে নিয়ে মা যে স্বপ্ন দেখছেন পিতা মাতা তাদের রক্ত পানি করে স্নেহের পরশে তাদের সন্তানকে সেভাবে মানুষ করে তোলেন তার প্রতিদান এটাই কি তার প্রাপ্য। আমাদের ধর্মগ্রন্থ আল কুরআনের  বিভিন্ন জায়গায়  বাবা মাকে সেবার কথা বলা হয়েছে। বলা হয়ে থাকে স্লেই ছেলে মেয়ে সৌভাগ্যবান যে তার বৃদ্ধ বাবা মার সেবা করার সুযোগ পেয়েছে। কুরআনে আল্লাহ বলেন, وَقَضَىٰ رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا ۚ إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِندَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلَاهُمَا فَلَا تَقُل لَّهُمَا أُفٍّ وَلَا تَنْهَرْهُمَا وَقُل لَّهُمَا قَوْلًا كَرِيمًا - وَاخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحْمَةِ وَقُل رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا যদি তোমাদের সামনে তাদের একজন, কিংবা  উভয়ে বার্ধক্যে উপনীত হন তবে তাদের সাথে উহ শব্দ পর্যন্ত বলা যাবে না, ধমক দিও না তাদের সামনে বিনয়ের সাথে মাথানত করে থাকবে এবং তাদের মৃত্যুর পর দোয়া করবে। হে আল্লা তুমি আমার পিতামাতাকে ক্ষমাকর। (সুরা বনি ইসরাফিল, আয়াত - )

তারুণ্যের পর বাধর্ক্য, এটাই জগতের নিয়ম। প্রতিবছর ১ লা অক্টোবর আন্তর্জাতিক প্রবীন দিবস, শুধু সভা সমিতি করে নয়, প্রকৃত অর্থেই প্রবীনদের ভালবেসে তাদের জীবনের শুন্যতা পূরণ করে তাদের জন্য কিছু করার ব্রত হোক আমাদের সমাজের হৃদয়বান ব্যক্তিদের। সন্তানরা প্রেম  ভালবাসা ও শুভেচ্ছা ডালা নিয়ে ভরিয়ে তুলুক তাদের অসহায় পিতা মাতার বাধর্ক্য পীড়িত জীবন এই কামনা হোক সকলের।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here