বাংলাদেশে ইসলামের আগমন - Etikathon

Etikathon

দেশ ও সমাজ : আমার চিন্তার বহি:প্রকাশ

Etikathon

test banner

Post Title

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

সোমবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

বাংলাদেশে ইসলামের আগমন

মানবতার অকৃত্রিম বন্ধু রসুলে করীম (সা:) এর হাতে গড়া একদল নিবেদিত প্রাণ সাহাবী ইসলামের সুমহান দাওয়াত নিয়ে সমগ্র দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলায় ইসলামের আগমন ঘটে এবং বহুইসলাম প্রচারক বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইসলামের দাওয়াত সম্প্রসারণ করেন। পরবর্তীতে ইসলাম রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও পৃষ্টপোষকতা লাভ করেন।

হাতে লেখা পবিত্র কুরআন শরীফ 

সপ্তদশ শতাব্দীতে অপূর্ব কারুকার্যে ও সুন্দর হস্তাক্ষরে লেখা কুরআনশরীফটি জাতীয় যাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। সে সময় ছাপা খানা না থাকলে হাতে লিখেই মানুষ ধর্মীয় গ্রন্থ বই পুস্তক নিজস্ব সংগ্রহে রাখতো। কুরআনেই হচ্ছে মানবতার একমাত্র মুক্তি সনদ। মুসলমানরা যতদিন কুরআনকে তাদের জীবন বিধান হিসেবে গ্রহন করেছিল ততদিন তারাই ছিল পৃথিবীর শাসক। বাংলার স্বাধীন সুলতানগণ কুরআন ভিত্তিক শাসন চালু করায় সমাজে শান্তি শৃংখলা ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়। কালক্রমে কুরআন থেকে মুসলমানদের বিচ্যুতির ফলে মুসলিম জগতে নেমে আসে অমানিশা। অপসলি, অধ:পতন আর নির্যাতন হয়েছে তাদের নিত্য সঙ্গী। মুসলমানদের রক্তে আজ পৃথিবী রঞ্জিত। এ অবস্থা থেকে আজ মুক্তি পেতে হলে কুরআনের দিকে সকলকে ফিরে যেতে হবে। সুত্র- Social history of Muslim's in Bangla Prof Abdul Karim-page-34 ডঃ আবদুল করিম প্রফেসর এ্যামিরিটাস, চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ইরান এবং বাংলাদেশ এশিয়াটির সোসাইটি অব বাংলাদেশ 2002

শাহ জালাল র: এর মাজার

বাংলাদেশে ইসলামের সম্প্রসারনের ক্ষেত্রে যে কয়জন ব্যক্তিত্বের অবদান চিরস্বরণীয় তন্মধ্যে হযরত শাহ জালাল (রা:) অন্যতম। সুলতান সামসুদ্দিন ফিরোজ শাহ তার সেনাপতি সেকান্দর গাজীকে দু’বার রাজা গৌর গেরিন্দের বিরুদ্ধে অভিযানে পাঠিয়ে ব্যর্থ হলে শাহ জালাল (রা:) 360 জন শিষ্য নিয়ে ঐ বাহিনীকে সহযোগিতা করলে যৌথ বাহিনীর অভিযানের মূখে গৌর গৌবিন্দ পলায়নে বাধ্য হয়। সুদুর ইয়ামেনের দীপ্ত দরবেশ হযরত শাহ জালালকে আজ থেকে 700 বছর পূর্বে সিলেট বিজয় করে মহানবী সা: এর প্রতিষ্ঠিত মদীনার নগর রাষ্ট্রের উন্নত সভ্যতার পত্তন করেছিলেন তার ভিত্তি ছড়িয়ে পড়েছিল সমগ্র দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায়। তারই স্মৃতি ধন্য এই সিলেট বাংলাদেশের সম্পদ সৌন্দর্য সমৃদ্দির প্রতীক। সুপ্রাচীন ইতিহাস ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক এবং শিক্ষা সাহিত্য শিল্পে সংস্কৃতি চর্চার গৌরবোজ্জল ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারে ধন্য সিলেট বাংলাদেশের আধ্যত্নিক রাজধানী। (মাজারের ছবি লাগবে) সুত্র বাংলায় মুসলমানদের আগমন ও উত্থান সাইফুল ইসলাম-দৈনিক খবর পত্র মঙ্গলবার 1 এপ্রিল 2003 বিশেষ সংখ্যা।

বঙ্গ বিজয়ের পূর্বে ইসলামের আগমন 

1204 খৃ: বঙ্গ বিজয়ের পূর্বেই এ দেশের অধিবাসীগন ইসলামের সাথে পরিচিত ছিলেন। আরবদেরকে চট্রগ্রাম বন্দর হয়ে চীনে যেতে হতো। এছাড়াও এ বন্দরের সাথে ইসলাম আগমনের পূর্বেই আরবদের ব্যবসায়িক সর্ম্পক ছিল। আধুনিক গবেষণায় প্রমানিত হয়েছে যে, রাসুল (স:) এর সময় 617 খৃ: সাহাবী আবু ওয়াক্কাস মালিক (রা:) এর নেতৃত্বে কায়েস ইবনে চায়রদী, তাফীম আনসারী ও রওয়াহ ইবনু আছাছা, আবু কায়েস ইবনু হারিসা (রা:) সহ একটি দল চট্রগ্রামে আসেন। এখানে ইসলাম প্রচার করে কয়েক বছর পর তারা চীনে যান। রাসুল (সা:) এর ওফাতের পর যে সকল সাহাবী ভারতীয় উপমহাদেশে দ্বীন প্রচার করতে এসে বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে চট্রগ্রাম এসে পৌঁছেছেন তারা হলেন আব্দুল্লাহ ইবনে উতবান, আসেম ইবনু আমর তাসীমি, সাহল ইবনু আবদীর, সুহায়েল ইবনু আদীর, হাকিম ইবনু আবিল আল সাকাফী রা:। পরবর্তীতে ‘দু’জন তারেফী মুহাম্মদ মামুন ও মুহাম্মদ সোহায়মেন এর একটি দল সহ এরুপ 5 টি দল বাংলা মুলুকে ইসলাম প্রচার করেন।

712খৃঃ মুহাম্মদ বিন কাসিম সিন্ধু বিজয় করলে ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলমানদের আগমনের পথ সুগম হয়। 778 খৃ: বঙ্গোপসাগরে ঝড় কবলিত মুসলমান গন আরাকানে আশ্রয় পায়। 951 খৃ: আরাকানের মুসলমানেরা পার্শ্ববর্তী Test ta song (চাটগাঁও/চট্টগ্রাম) নামক স্থান বিজয় করেন এবং বাংলায় ইসলাম প্রচারের ব্রতী হন। 1053 খৃ: শাহ মুহাম্মদ সুলতান বলখি নৌ পথে ইসলাম প্রচারের জন্য মানিকগঞ্জের হরিরাম নগর আসেন। পরবর্তীতে বগুড়ার মহাস্থান গড়কে কেন্দ্র করে নিকটবর্তী অঞ্চলে মসজিদ ও ইসলামী শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপন করে ইসলাম প্রচার করেন। 1100 খৃ: একদল মুবাল্লিগ নিয়ে শাহ মোহাম্মদ সুলতান রুমী নেত্রকোনায় আসেন। মদন পুরের রাজার নিকট ইসলামের দাওয়াত দিলে প্রথমে তিনি বিদ্ধেষ পোষন করলেও পরবর্তীতে ইসরাম গ্রহন করেন। 1179 খৃ: বাবা শাহ আদম একদল সঙ্গী নিয়ে বিক্রম পুরে ইসলাম প্রচার করেন। 1184 খৃ: শাহ মাখদুম রুপোশ রাজশাহী অঞ্চলে প্রথম ইসরাম প্রচারক বঙ্গ বিজয়ের পূর্বে যে সব ইসলাম প্রচারক সর্ম্পন বিরোধী পরিবেশে বাংলায় ইসলামের ভিত গড়ে তুলেছিলেন শাহ মাখদুম ছিলেন তাদের প্রধানতম। তিনি রাম পুরের বোয়ালিয়া কেন্দ্র করে রাজশাহীকে ইসলামের দুর্গে পরিনত করেন। সুত্র- বাংলাদেশে ইসলামের আগমন প্রকাশনী 2002 বর্ষ পঞ্জিকা (2) গৌড় থেকে সোনার গাঁ- শফিউদ্দিন সরকার।

বিভিন্ন অঞ্চলে বিজয়ী বেসে ইসলাম 

উত্তর বঙ্গ (গৌর, নদ্দীয়া, বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর) 1204 খৃ: বখতিয়ার খিলজী পূর্বঞ্চল (সোনার গাঁ, ঢাকা, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ) 1280 খৃ: মুগিস উদ্দিন তুঘরিল, সিলেট- 1303 খৃ: শাহ জালাল (র:) সেকান্দর গাজী চট্টগ্রাম 1340 খৃ: ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ খুলনা বিভাগ 1418- 1449 খৃ: খান জাহান আলী।

রাষ্ট্রীয় পৃষ্ট পোষকতায় ইসরামের প্রচার ও প্রসার 

বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে 1204 খৃ: মুসলিম শাসন একাধারে 554 বছর চলেছিল। তাহলো 1204 খৃ: লক্ষ্মন সেনকে পরাজিত করে বখতিয়ার খিলজী বাংলাদেশে মুসলিম শাসনের সুচনা করেন। তিনি রাজমহল, মালদা, দিনাজপুর, রাজশাহী, বগুড়া, যশোর ও নদীয়ায় ইসলাম সম্প্যসারনের জনৗ্ মসজিদ ইসলামী শিক্ষালয় স্থাপন ও প্রচারক নিয়োগ করেন। 1212-27 থৃ: হুসাম উদ্দিন খিলজী বহু মসজিদ, মাদ্রাসা নির্মান করেন। তিনি বিশিষ্ট আলেমদেরকে ভাতা প্রদান এবং দরবারে ওয়াজের ব্যবস্থা করতেন। 1278খৃ: শায়েখ শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামাহ সোনার গাঁ এসে বসতি স্থাপন করে নির্ভেজাল জ্ঞান বিতরনের জন্য এখানে মাদ্রাসা স্থাপন করেন।1301-03খৃ: সুলতান ফিরোজ শাহের শাসনকালে (শ্রীহট্রের বর্তমান সিলেট) মুসলিম নিপীড়ক রাজা গৌর গোবিন্দের বিরুদ্ধে সেনাপতি সেকান্দর গাজীর নেতৃত্বে দু বার ব্যর্থ অভিযানের পর হযরত শাহ জালালের সহাযোগীতায় হিন্দু রাজের পতন হয়। আব্দুল কাদের রিানীর পৌত্র সাইয়েদ আহমদ তান্নুরী লক্ষীপুরেরর কাঞ্চনপুরে ইসলাম প্রচার করেন। 1313 খৃ: শাহ শফী উদ্দিনের সহযোগিতায় জাফর খান সাতগাঁও জয় করেন। 1325 খৃ: হাজী সামছুদ্দীন ইরিয়াছ শাহ লিষ্ঠাবান মুসলিম গহসেবে শাসনকার্য পরিচালনা করা ছাড়াও ইসলাম প্রচারে মুবাল্লিগদেরকে উৎসাহিত করতেন। 1439 খৃ: থান জাহান আরী বৃহত্তর খুলনায় ইসরাম প্রচার শুরু করেন। ষাট গম্বুজ মসজিদ তার অমর কৃর্তী। তিনি বিভিন্ন স্তানে মসজিদ ও ইসলামী শিক্ষারয় স্থাপন করেন। 1459 খৃ: রুকনুদ্দীন বারবাক শাহের শাসনমলে আরব দেশ থেকে শাহ ইসমাঈল গাজী 120 জন মুবাল্লিগ নিয়ে গৌড়ে আসেন এবং সিলেট ও চট্রগ্রামে ইসরাম প্রচার করেন। 1475 খৃ: ইউসুফ শাহ তাঁর শাসনামলে ইসলামী বিধি বিধান প্রতিষ্ঠা করেন। জনসাধারনের নৈতিক মানোন্নয়নে মদ্যপান নিষিদ্ধ করেন এবং বহু মসজিদ নির্মান করেন। 1516 খৃ: চট্রগ্রামের শাসনকর্তা আলা উদ্দিন শাহ পরাগল কান খলিফাতুল্লাহ ইসলাম ও মুলসমানদের সাহায্যকারী প্রভূতি উপাধিতে ভূষিত হন। 1536 খৃ: সুরাইমান কররানী ছিলেন একজন নিষ্ঠাবান মুসলিম। তিনি সালতানাতে ইসলামী শরীয়াহ কার্যকর করেন এবং প্রতিদিন সকাল বেরা একদল আলেমের সাথে মরীয়াহ বিষয়ক আলোচনা করতেন। 1558-1599 খৃ: ঈশা খাঁ বার ভূঁইয়াদের নিয়ে বাতিল ধর্মসতের প্রতিস্ঠাতা মোঘল সম্রাট আকবরের বিরুদ্ধে অবিরাম লড়াই করে বাংলাকে দ্বীনে এলাহীর প্রভাবমুক্ত রাখেন এবং দ্বিল্লী থেকে বিতাড়ীত প্রতিবাদী মুসলমানদের নিরাপদ আশ্রয় স্থলে পরিনত করেন। 1664 খৃ: সম্রাট আওরঙ্গদেব শায়েস্তা খানকে বাংলায় সুবাদার নিযুক্ত করেন। তিনি ঢাকায় এসে পৌঁছে প্রতমে যাকাত উলর জায়গীর ইত্যাদি সংক্রান্ত অসঙ্গতি দুর করেন। 1717 খৃ: মুর্শিদ কুলী খান বাংলার সুবাদার হয়ে বাংলায় ইসলামী মাসন প্রতিষ্ঠা করেন।নেক মাদ্রাসা মসজিও নির্মান করেন। 1757 খৃ: 23 জুন ইংলিশ ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর নিকট বাংলার শেষ নবাব সিরাজুদৌলার পরাজয়ের মাধ্যমে মুসলিম শাসনের অবসান ঘটে। অপরিনামদর্শী স্বার্যন্ধ ও প্রতি হিংসা পরায়ন নেত্ববন্দের ভুল সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপের ফলে 554 বছরের মুসলিম মাসনের অবসান হয়ে 190 বছর ইংরেজদের গোলামীর জিঞ্জিরে আবদ্ধ হতে হয়।

ইংরেজ আমলে মুসলিম সংস্কারকদের ভূমিকা

1757 সালে মুসলিম শাসনের পরিসমাপ্তির ঘটলে বাংলার মুসলমানদের উপর ইংরেজ শাসন ও হিন্দু জমিদারিত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন মুসলমানরা তিন ধরনের আক্রমনের শিকার হতে থাকে। দখলদার ইংরেজদের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক ওর্থনৈতিক চরম আক্রমন তাদের তল্মিবাহক হিন্দু এলিটদের সাংস্কৃতিক আগ্রাসন এবং অর্থনৈতিক দুর্বলতার সুযোগ খৃষ্ঠান মিশনারীদের ব্যাপক ধর্মান্তকরনের চেষ্টা। এই বহুমুকী আক্রমনে প্রতিরোধে এগিয়ে আসেন মুসলিম সমাজ সংস্করিকগণ। তন্মর্ধে্য অন্যতম হলেন-

হাজী শরীয়তুল্লাহ- তিনি মুসলিম সমাজ থেকে কুসংস্কার , শিরক, রিদয়াত নিমূর্লের জন্য 1818 খৃ: ফরায়েজী আন্দোলন শুরু করেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর ছেনে দুদু মিয়া মৃতু পর্যন্ত (1840-62 খৃষ্ট এটাকে ইংরেজ প্রতিরোধ আন্দোলনে রূপদেন।

মীর নিযার আলী তিতুমীর -তিনি 1821 সালে ইংরেজ হিন্দু, জমিদার নীলকরদের বিরুদ্ধ ব্যাপক প্রতিরোধ ওমুসলিম সমাজে আত্নজাগরন সৃষ্ঠিতে গড়ে তোলেন আন্দোলন। অত্যাচারী জমিদারদের দমন করে ইংরেজ পেটুয়া বাহিনীকে একাধিক বার পরাজিত করেন। তিনি 1831 খৃ: তার নারিকেল বাড়িয়ার বাঁশের কেল্লায় শাহাদাত বরন করেন।

মাওলানা কেরামত আলী জৌন পুরী -তিনি বাংলা আসামের আনাচে কানাচে ইসলামকে পুনরুজ্জীবিত করেন। মুসলিম সমাজকে পরাধীনতার হীনমন্যতা ও হিন্দু সাংস্কৃতিক আগ্রাসন থেকে রক্ষা করেন। তিনি মুসলমানদেরকে আবার মুসলমান বানান। তখনকার মুসলিম সমাজ এতটা অধঃপতন হয়েছিল যে পুরুষরা রেংটি মেয়েরা গামছা পরত এবং হিন্দু জমিদারদের দেয়া নবজাতকের নাম গেছু, গাছা, পেটার, ফেবু এ ধরনের গ্রহন করত। মুসলমানরা হিন্দুদের সামাজিক অনুষ্ঠান সবই পালন করত। তিনি 1822 খৃ: তার প্রচার কার্যক্রম শুরু করেন এবং 1873 খৃ: রংপুরে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তা অব্যাহত রেখে মুসলিম সমাজের আমূল পরিবর্তন করেন।

মুন্সি মেহেরুল্লাহ -খৃষ্ঠান মিশনারীদের অপত্য পরতা রোধে তিনি অবস্মরনীয় ভূমিকা রাখেন। তার চ্ষ্টোর ফলেই মিশনারীদের কর্মতঃপরতা অনেক কমে যায় এবং মুসলিম সমাজ সতর্ক হতে থাকে।

বিচ্ছিন্ন অঞ্চল হওয়ার পর ও মুসলিম প্রধান বাংলাদেশ 

বিশ্বমান চিত্রের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুরোর মধ্যে অন্যতম হলো বাংলাদেশ। কিন্তু বিস্ময়ের বিষয় এই যে, এর চার পাশে নানা মতাবলম্বীদের আবাস ভূমি হওয়ার পর ও কিভাবে বিচ্ছিন্ন অঞ্চলটি মুসলিম প্রধানের গৌরব অর্জন করল, তার কারণ হলো ইসলাম যখন সমগ্র দুনিয়ায় মুবাল্লিগ ও মুজাহিদগনের মাধ্যমে সমপ্রসারিত হয়েছিল তখন স্থল পথের চেয়ে নৌ পথই ছিলো যোগাযোগের সর্বোতম মাধ্যম। বাংলার চাটিগাঁও পরবর্তীতে চট্রগ্রাম ছিল বাণিজ্য কেন্দ্র গুলির একটি। ইসলাম প্রচারক ও আরব বনিকদের বানিজ্য জাহাজ বঙ্গোপসরের উপর দিয়ে শৎগঙ্গ (চট্রগ্রাম) বন্দর হয়ে চনিদেশে যেত। এ সুবাদে বানিজ্য কাফেলা ও মুবাল্লিগগন বাংলায় প্রবেশ করে ইসলামের দাওয়াত মানুষের হৃদেয় রাজ্য গেঁথে দেন। তাছাড়া রাজনৈতিক বলয়মুক্ত শান্ত প্রকৃতি ও কোমল স্বভাবের অধিকারী নৈতিক চরিত্রে খুবই উন্নত এ অঞ্চলের মানুষ ইসলামের দাওয়াত পেশ করার সাথে সাথে নির্দ্বিধায় গ্রহন করেছিল। পলে ইসলাম দ্রুত সমপ্রসারিত হয়েছে। পরবর্তীতে ইসলাম রাজনৈতিক তৎপরতার সমন্বয়ে বিজয়ী রুপ লাভ করে।

অঞ্চল ভিত্তিক বিখ্যাত ইসলাম প্রচারকগণ 

চট্রগ্রাম 612 খৃ: সাহাবী আু ওয়াক্কাল মালিক ইবনু ওহাব, কায়েস ইবনু হুযাইফা, উরওয়াহ ইবনু আছাছা, আবু কায়েস ইবনু হারিস (রা:) 645 খৃ : তারেপী মুহাম্মদ মামুন, মুহাম্মদ মুহায়সেন, 874 খৃ: আওলিয়া বায়েযীদ বোস্তামী, মাহমুদ মাহী সওয়ার, বদর শাহ, 1505 খৃ: শেখ ফরিদ 1801 খৃ: মাহ আমানত কুমিল্লাহ-চাঁদপুর, 1303 খৃ: শাহ রাস্তি শাহ মাদার খাঁ নেত্রকোনা 1100 কৃ: শাহ সুলতান রুমী মুন্সিগঞ্জ। 1200 খৃ: আদম শাহ রাজশাহী, 1184 খৃ: শাহ মাখদুম রুপোশ ফুরকান শাহ বগুড়া, 1553 শাহ গাজী 1658 শাহ সুলতান বলখী, 1776 ফতেহ আলী দিনাপুর, 1203 আলী মরদান খিলজী বদরুদ্দীন, পাবনা, 1240 মাখদুম শাহ দৌলা, সোনারগাঁ, 1278 শায়খ শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামাহ, 1313 শাহ শফীউদ্দিন, 1352 শামছুদ্দীন ইলিয়াছ শাহ মায়খ শরফুদ্দীন ইয়াহিয়া, 1358 শায়খ আলাউল হক, সিলেট। 1303 শাহ জালাল ইয়ানেনি শাহপরান, 1449 শাহ ইসশাইল গাজী লক্ষীপুর। 1304 সাইয়েদ আহমদ তানুরী, নোয়াখালী, 1328 ফখরুদ্দীন, বাগেরহাট, 1439 খান জাহান আলী গরীব শাহ মাদার ,1459 মুহাম্মদ আবু তাহির , ঢাকা বিভাগ, 1053 সুলতান রুমী, 1179 আদম শহীদ, 1490 তুরকান শাহ, 1545 সুলাইমান খান, 1577 শাহ আলী বোগদাদী, 15984 শাহবাদ কান, 1659 মুয়াযম খান মীর জুমলা, 1664 শায়েস্তা খান জাহাঙ্গীর, খুলনা, 1277 হযরত খান গাজী, রংপুর, 1303 শাহ কলন্দর , 1307 মখদুম শাহ জালালুদ্দীন জাহ৭াগশতে বুকারী, 1897 সৈয়দ আবু জাফর মাদানী, গোরা সৈয়দ পীর পাগলা পীর 2459 শাহ ইসমাইল গাজী 1873 কেরামত আলী জৌনপুরী, শাহফনাদর ,ফরিদপুর, 1447 শাহ সুলতান বলখী 1200 শেখ ফরিদ উদ্দিন আত্তার, 1400 বদিউদ্দিন শাহ মাদার, 1412 শাহ আলী বাগদাজী, 1818 হাজী শরীয়তুল্লাহ, 1898 শামছুল হক ফরিদপুরী, জামালপুর, 1503 শাহ কামাল, 1779 মাহ জামাল, বৃহত্তর বরিশাল, 1361 সাইয়েদুল আরেফিন মীর কুতুব চেরাগ আলম নফিসুর রহমান শাহ ওয়াজির আলী, শাহ ইয়াহিয়া, 1914 নেছার উদ্দিন আহমদ, 1850 কেরামত আলী, 1857 আবু জাফর ছালেহা।

ইসলাম প্রচারে বঙ্গে উল্লেখযোগ্য শহীদগণ 

1179 বিক্রমপুরের বাবা আদম শহীদ (একদল অনুসারীসহ), 1245 পাবনার শাহ হদি পুরে মখদুম শাহদৌলা (21 জন অনুসারীসহ), 1279 বগুড়ায় শেরপুরে মাহ তুর্কান শহদি, 1299 সাতগাঁও এ শাহ সুফী শহীদ, 1320 কুমিল্লায় সাএয়দ আহমদ কল্লা মাহ, 1412 গৌড়ে শায়খ বদরুল ইসলাম, 1418 সোনারগাঁও এ শায়খ আনওয়ার মাহ, 1715 বর্ধমানে খাজা আনওয়ার শাহ, 1715 ঢাকায় মাহ আবদুর রহীম। দরসবাড়ী মাদ্রাসার বূমি কাঠামো : চাপাই নবাবগঞ্জ জেলায় অবস্থিত প্রাচীন গৌড় নগলতে 1479 খৃ: এই বিখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি নির্মিত হয়। পাশে একটি চমৎকার মসজিদ রয়েছে। আরবী দরস অর্ত পাঠদান। মাদ্রাসায় দরস বা পাঠদান করা থেকেই এলাকার নাম দরসবাড়ি হয়ে যায়। 

ইন্দ্রাকপুর জলদৃর্গ- 1610 খৃ: বাংলার সুবাদার মীর জুমলা মগ জলদস্যুদের আক্রমন প্রতিহত করার জন্য মুন্সীগঞ্জের ইচ্চামতি নদীর তীরে এ দুর্গ তৈরী করেন। বাংলাদেশে যতগুলো প্রাচীন দূর্গ দেখা যায় তন্মধ্যে জলদূর্গ হিসেবে ইন্দ্রাকপুর বিখ্যাত।

ধানমন্ডি ঈদগাহ- বাংলাদেশের প্রাচীন ঈদগাহের একমাত্র নিদশর্ন। বাংলার সুবাদার শাহ সুজার আমলে দেওয়ান মীর আবুল কাশেম 1640 খৃ: এটি নির্মান করেন। অন্যান্য বিখ্যাত ঈদগাহের মধ্যে প্রায় 150 বছর পূর্বে প্রতিস্ঠিত কিশোরগেঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ ঈদগাহ। (ছবি লাগবে) গিয়াস উদ্দিন আযম শাহের কবর সোনারগাঁও : এখানেই চির নিন্দ্রায় শায়িত আছেন বাংলার স্বাদীন সুলতান মাসকদের মধ্যে ম্রেষ্ঠ ও জনপ্রিয় মাসক গিয়াস উদ্দিন আযম শাহ। তাঁর ন্যায় বিচার আজো বিংবদভি হয়ে আছে। তিনি ত৭ার বিশ্বাস্ত অমাত্য রাজা গনেশের চক্রান্তে 1411 খৃ: নিহত হন। 

শায়েস্তা খানের বাড়ী- 1663 খৃ: বাংলার সুবাদার মায়েস্তা খাঁন তাঁর বসবাসের জন্য ছোটসাটরা বলে ক্যাত এই ইমারত নির্মান করেছিলেন। বর্তমানে এই প্রাচীন নসৗন্দর্য বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এই ঢাকার চকবাজারে অবস্থিত।

পানাম পুল- মুসলিম শাসনামল ছিল জনকল্যান মূকী। যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রভূত উন্নতি হয়েছিল তখন। সে সময় অসংখ্য রাস্তা ঘাট ব্যীজ পুল নির্মান করা হয়। সোনারগাঁয়ে মোঘল আমলে নির্মিত পানাম জনপদের প্রবেশ পথে 173ফুট দীর্ঘ এ পুলটি তারই নজির।

ষাটগম্বুজ মসজিদ- খুলনা বিভাগের সর্বত্র জনবসতি গড়ে তোলা এবং ব্যাপক ভাবে ইসলাম প্রচারের জন্য স্বরনীয় হয়ে আছেন খান জাহান আলী। তিনি এলাকায় কুরআনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে নাম দেন খলিফাতাবাদ বা আল্লাহর প্রতিনিধির অঞ্চল। বিখ্যাত ষাটগম্বুজ মসজিদসহ 360টি মসজিদ লোনা পানির দেশে সুপেয় পানির জন্য 360 টি দীঘি ও অসংখ্য পাকা সড়ক নির্মান করেন্ তিনি ঝিনাইদহের বারো বাজার থেকে দক্ষিন মূখে পথে পাকা সড়ক পাকা মসজিদ নির্মান ও বড় বড় জলাময় খনন করে অগ্রসর হতে হতে বাগের হাটে এসে আস্তানা গড়েন। সেখানেই 1449 খৃ: শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

নহবত খানা- মুসলিম মাসকদের প্রাসাদের প্রবেশ পথে এ ধরনের নহবত খানা থাকতো। এখান থেকে মুসাফিরদের আশ্রয়ের সন্ধান দেওয়া হতো। সকাল-সন্ধ্যায় বিভিন্ন সংবাদ পরিবেশন ও ফরমান জারী করা হতো। এটিই বাংরাদেশ সন্ধান প্রাপ্ত একমাত্র নহবত কানা। (ছবি লাগবে) দূর্গের প্রবেশ পথ: এটি নারায়গঞ্জের হাজিগঞ্জ দূর্গের প্রবেশ পথ। দূর্গের প্রবেশ পথ কৌশলগত কারনে বেশ উচুঁ এবং সরু রাখা হতো। যাতে শত্রবাহিনী সহজে ভিতরে ডুকতে না পারে। 

তাহ খানা- জলাশয় সংলগ্ন ইমারত এর ভূ:গভস্থ কক্ষকে শতিল রাখতে জলাশয় হতে পাইপ দ্বারা পানি সরবরাহ করা হতো। গৌড়ের এই তাহখানটি 1655 খৃ: সম্রাট শাহজাহানের প্রত্র শাহ সুজা তার পীর শাহ নিয়ামতুল্লাহর জন্য নির্মান করেন। 

শিলা লিপি- ইতিহাস উদ্ধারে শিরা রিপির ভূমিকা অপরিসীম। ইতিহাস ইসলামের দান। প্রায় সকল ইসলামী স্থাপত্যের শিলা লিপি দেখা যায়। এ সব শিলালিপিতে রয়েছে শৈল্পিক নিদর্শন। 1582 সালে স্থাপিত বগুড়া জেরার শেরপুর খেরুয়া মসজিদ গাত্রে ধুসর বেলে পাথরের এ চমৎকার শিলালিপিটি সংরক্ষিত আছে।

বাংলাদেশে মুসলিশ শাসন

1. বখতিয়ার খিলজীল বিনিজ এলাকা বর্তমান বাংলাদেশের বগুড়া রংপুর দিনাজুপুর বর্তমান ভারতের পশ্বিম বঙ্গের কিছু অংশ এবং বিহারের কিছু অংশ গৌড় বগদীয়া 1204 খৃষ্টব্দ। 2. ইলিয়াছ শাহের স্বাধীন বাঙ্গলো বর্তমান পুরো বাংলাদেশ ভারতের ত্রিপুরা, কলকাতা, পশ্বিম বঙ্গ ও বিহারের কিছু অংশসহ নেপাল সীমান্ত পর্যন্ত। 3. সিরাজুদ্দৌলার রাজী সীমানা 1557 খৃ: পযৃন্ত বর্তমান পুরো বাংলাদেশ ভারতের ত্রিপুরা পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, উড়িষ্যা, কলকাতা এলাকা। 4. বারভূইয়াদের জমিদারী এলাকা বর্তমান বাংলাদেশের পাবনা, যশোর, বরিশাল, ফরিদপুর, কুমিল্লা, ঢাকা, সোনারগাঁও, নোয়াখালী, ময়মনসিংহ, সিলেট এই এলাকা।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here