আল্লাহর নৈকট্য লাভ - Etikathon

Etikathon

দেশ ও সমাজ : আমার চিন্তার বহি:প্রকাশ

Etikathon

test banner

Post Title

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

সোমবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

আল্লাহর নৈকট্য লাভ

আসমান জমীনের স্রষ্টা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মানুষকে এই দুনিয়ায় তাঁর খলীফা বা প্রতিনিধি  হিসেবে পাঠিয়েছেন। এই প্রতিনিধিদের দায়িত্ব পালনের কারণে মানুষ আল্লাহর সৃষ্টির সেরা। তার পরিচয় সে আশরাফুল মাখলুকাত। মানুষের চির শত্রু ইবলেশ মানুষের এই মর্যাদা এই সম্মান বরদাশত করতে পারেনি। মানুষের জীবন পথের বাঁকে বাঁকে চলার পথের মোড়ে মোড়ে নানা বিব্রান্তির বেড়াজাল সৃষ্টি করে আসছে আবহমান কাল থেকেই। ফলে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সাথে মানুষের যে, সর্ম্পক থাকার কথা ছিলো তা মাঝে মাঝে ছিন্ন হয়ে যায়। আল্লাহ রাব্বুল মানুষকে মাটির এ পৃথিবীতে যে সুকঠিন এক দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছেন সে দায়িত্ব পালনের পথে যে ইবলিশ বাঁধা সৃষ্টি করে আসছে এ সর্ম্পকে আল্লাহ তায়ারা গাফেল নন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, قُلْنَا اهْبِطُوا مِنْهَا جَمِيعًا ۖ فَإِمَّا يَأْتِيَنَّكُم مِّنِّي هُدًى فَمَن تَبِعَ هُدَايَ فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ অতঃপর আমাgfর পক্ষ থেকে হিদায়াত আসবে যারা সেই হিদায়াতের অনুসরন করবে তাদের বয়ের এবং চিন্তার কোন কারণ নেই। (সুরা বাকার-38) এভাবে মানুষ আল্লাহরসাথে যে সর্ম্পক বজায় রাখার অঙ্গিকার সহ এ দুনিয়াতে এসছে আল্লাহ তায়ালা সে অংগিকারের কথা স্বরণ করিয়ে দেবার ব্যবস্থা করেছেন। সুতরাং আল্লাহর সাথে বান্দার সঠিক সর্ম্পকের সংজ্ঞা নির্নয় করা, উক্ত সর্ম্পক স্থাপন ও বৃদ্ধি করার বিষয়টি কোনো অভিনব বা দুর্বোধ্য ব্যাপার নয়। ব্যাপারটাকে দুর্বোধ্য বানানো হয়েছে মনগড়া উপায় অবলম্বন করেই। অথচ এ ক্ষেত্রে মনগড়া কোন উপায় বা পথের অনুসরনের আদৌ কোন অবকাশ নেই। 

মানুষের প্রতি আল্লাহ তায়ালার সর্বশেষ হিদায়াত বা সর্বশেষ কিতাব আল কুরআন আমরা পেয়েছি তাঁর সর্বশেষ রাসুল মুহাম্মদ (সাঃ) এর মাধ্যমে। হযরত মুহাম্মদ (সা:) শিক্ষার আলোকে আল্লাহর সাথে সর্ম্পক সৃষ্টির ব্যাপারে তিনটি জিনিস আয়ত্ব করা অপরিহার্য (এক) আল্লাহ তায়ালার সঠিক মারেফাত বা তার পরিচয়। (দুই) সঠিক অর্থে আল্লাহ তায়ালার দাসত্ব করা (তিন) আল্লাহর মনোনিত পথে চলা এবং অমনোনিত পথ বর্জন করা। আল্লাহর সাথে আমার সর্ম্পক কেমন হবে তা নির্ভর করে তার পরিচয়ের উপর। দুনিয়াতে যত বিপর্যয় যত বিশৃংখলা, যত অশান্তি তার মূলে রয়েছে আল্লাহর সঠিক পরিচয় সর্ম্পকে অজ্ঞতা। অন্যথায় মানুষ কোন দিনই আল্লাহকে একেবারে অস্বীকার করে না। কট্রর নাস্তিক বলে যারা পরিচিত প্রত্যক্ষ না হলেও অন্তত: পরোক্ষভাবে তারাও আল্লাহর অস্তিত্বের স্বীকৃতি দিয়ে আসছে মানব ইতিহাসের প্রায় সব অধ্যায়। তাই আল্লাহ তায়ালা যুগে যুগে নবী রসুল পাঠিয়ে মানুষের সামনে তাঁর সঠিক পরিচয় তুলে ধরেছেন। নিছক তাঁর অস্তিত্ব প্রমাণ করার জন্য বা মানার জন্যে কোন নবী রসুল আসছেন ইতিহাসে এমন প্রমাণ পাওয়া যায় না। শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) যাদের মাঝে আবির্ভূত হয়েছিলেন তাদের সবাই আল্লাহর অস্তিত্ব মানতো। কিন্তু আল্লাহর সঠিক মর্যাদা সর্ম্পকে তাদের সঠিক পরিচয় সর্ম্পকে তারা ছিলো অজ্ঞ। তারা দেব দেবীর পূজা অচর্না করতো। তাও এই বিশ্বাস নিয়ে যে, এগুলো তাদেরকে আল্লাহর নৈকট্য লাভে সাহায্য করবে। অনুরুপ ভাবে হযরত মুসা (আঃ) এর জাতী আল্লাহর সঠিক পরিচয় ও লাভ করেছিল। কিন্তু প্রভৃত্তির দাসত্ব করতে গিয়ে ইবলিসের ফাঁদে পা দিয়ে ঈসায়ী ও ইহুদী পন্ডিতগণ আল্লাহর কিতাবের মনগড়া পরিবর্তন আনে। ফলে তাওরাত ও ইন্জিলের পরবর্তী অনুসারীগণ আল্লাহর সঠিক পরিচয় লাভে ব্যর্থ হয়। সেই সাথে তারা ব্যর্থ হয় আল্লাহর নৈকট্য লাভেও। সুতরাং আমরা যারা আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভের প্রত্যাশী, তাদেরকেও সর্বপ্রথম আল্লাহ তায়ালার সঠিক পরিচয় লাভ করতে হবে। 

আল্লাহ তায়ালার সঠিক পরিচয় হাসিল করতে হলে পাঁচটি বিষয়ে সঠিক ধারণা লাভ করা একান্তই অপরিহার্য। (1) আল্লাহ তায়ালার জাত সর্ম্পকে সঠিক ধারণা। (2) আল্লাহ তায়ালার সিপাত বা গুণাবলী সর্ম্পকে সঠিক ধারণা। (3) আল্লাহ তায়ালার কুদরত বা কার্যক্রম সর্ম্পকে সঠিক ধারণা। (4) আল্লাহ তায়ালার নিয়ামত সর্ম্পকে ধারণা। (5) আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে অতীতে নাফরমান লোকদের যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হয়েছে সেসব ঐতিহাসিক দিন সমুহের আলোচনা এবং সর্বশেষ দিন কিয়ামত সর্ম্পকীয় ধারণা। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) আল্লাহর মারিফাত বা পরিচয় হাসিলের জন্য আল্লাহর জাত সর্ম্পকে চিন্তা গবেষণা করে কোনো কিছুই আয়ত্ব করতে সক্ষম নয়। স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা তার জাত সর্ম্পকে আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল আমাদেরকে যে পরিচয় দান করেছেন সেটাই আল্লাহর জাত সর্ম্পকে সঠিক ধারণা। আল্লাহ তায়ালা তাঁর জাত সর্ম্পকে কুরআনে সুসপষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা দিলেন, قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ-اللَّهُ الصَّمَدُ-لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ-وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ হে নবী আপনী ঘোষণা করুন, আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়, তিনি সৃষ্টি জগতের কারো মুখাপেক্ষী নন। তিনি কোন সন্তান সন্তুতির জনক নন, তিনি ও কারও ঐরসজাত নন, তাঁর সমকক্ষ কেউই হতে পারে না। (সুরা ইখলাছ) বস্তুত আল্লাহর জাত সর্ম্পকে এটাই হলো সর্বোৎকৃষ্ট বর্ণনা।

আল্লাহ তায়ালা কুরআনে আরও বলেন, إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لَآيَاتٍ لِّأُولِي الْأَلْبَابِ আসমান জমিনের সৃষ্টির মধ্যে দিবা রাত্রির পরিবর্তন ও আর্বতনের মধ্যে জ্ঞানীদের জন্যে নিদের্শাবলী বিদ্যমান (সুরা ইমরান 190) আল্লাহ তায়ালা তাঁর কিতাবের মাধ্যমে নিজের পরিচয় উপস্থাপন করেছেন। আলকুরআনের বিভিন্ন স্থানে আল্লাহর অসংখ্য গুনবাচক নামের বর্ননা এসছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন গোটা বিশ্বলোকের একক সৃষ্টিকর্তা। এ বিশ্ব জাহানের প্রতিটি সৃষ্টির প্রয়োজন ও তিনি একক ভাবেই পূরণ করেছেন। এসব কিছুর মালিক ও তিনি। এই বিশ্বলোকের সর্বত্র কেবল মাত্র তাঁরই কর্তৃত্ব সর্বভৌমত্ব প্রতিষ্টিত। এভাবে কুরআনের বিভিন্ন সুরায় আরো যে সব গুনবাচক নামের উল্লেখ আছে। মানুষের সাথে আল্লাহর তায়ালার সর্ম্পকে উল্লেখ করতে গিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন, قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ-مَلِكِ النَّاسِ-إِلَـٰهِ النَّاسِ-مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ-الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ-مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ বল আমি আশ্রয় কামনা করছি মানুষের রব, মানুষের মালিক এবং মানুষের ইলাহার নিকট বার বার বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারদের অনিষ্টকারীতা থেকে যারা মানুষের মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে থাকে জ্বিন অথবা মানুষের মধ্য থেকে। (সুরা নাস) মানুষ মনগড়া আইন কানুন বিধি বিদানের অনুসরন করতে গিয়ে জীবন টাকে তিনভাবে ভাগ করে নিয়েচে। এভাবে মানুষের সমাজে তিন শ্রেনীর কায়েমী স্বাথের জস্ম হয়েছে দুনিয়ার ইতিহাসে প্রায় সব যুগে সব কালেই সাধারণ মানুষ এই তিন শ্রেনীর কায়েমী স্বার্থের যাতাকলে পিষ্ট হয়ে আসছে। 1. রাজনৈতিক ক্ষমতা ও প্রতিপত্তির অধিকারী। 2. অর্থনৈতিক প্রাধন্য ও প্রতিপত্তির অধিকারী। 3. ধর্মীয় নেত্বত্বও পৌরহিত্যের অধিকারী। আল্লাহকে একযোগে মানুষের রব, ইলাহ ও মালিক মানার অর্থ মানুষের জীবন থেকে এই তিন শ্রেনীর কায়েমী স্বার্থের কর্তৃত্ব প্রভুত্ব অস্বীকার ও উৎখাত করে আল্লাহকেই সব কিছুর একক নিয়ামক মনে করা এবং একক ভাবে আল্লাহর বিধিবিদানের মাধ্যমেই অধ্যাত্নিক উৎকর্ষ সাধন তথা পারলৌকিক মংগল হতে পারে বলে দৃঢ় আস্থা পোষন করার নামই তৌহিদ বিশ্বাস করা। পক্ষান্তরে এর মধ্যে সামান্য যোগ বিয়োগ ও শিরকের অন্তর্ভূক্ত। 

আল্লাহর কুদরত হাসিলের জন্যে চিন্তা শক্তিকে কাজে লাগাবার দ্বিতীয় বিষয় হলো আল্লাহ তায়ালার কুদরত নিয়ে জ্ঞান গবেষণা করা। আল্লাহর তাওহীদের প্রতি মনকে বিশ্বাসী করে তুলবার মতো অগনিত উপাদান আসমান জমীনের সৃষ্টির মধ্যে, সৃষ্টি জগতের প্রতিটি অনু-পরমানুতে ছড়িয়ে আছে। সৌরজগতের প্রতিটি গ্রহ উপগ্রহের নিজ নিজ কক্ষ পথে নিয়ম সুশূংখল ভাবে পরিভ্রমণ করা, এক চিরন্তন নিয়মে দিনের পর রাত, রাতের পর দিনের আগমন, চিরন্তন নিয়মেই ঋতুর পরিবর্তন, পশু পাখী, কীট পতঙ্গ, গাছ পালা, তুরু লতা, প্রভৃতিতে একই চিরন্তন স্বাশত নিয়মের কার্যকারীতা মানুষের মনে স্বতস্ফুর্ত ভাবে জাগিয়ে তোলে। তাওহীদের অনুভুতি  সম্পর্কে আল্লাহ বলেন,  لَن يَضُرُّوكُمْ إِلَّا أَذًى ۖ وَإِن يُقَاتِلُوكُمْ يُوَلُّوكُمُ الْأَدْبَارَ ثُمَّ لَا يُنصَرُونَ হে আমাদের মুনীব ! তুমি সৃষ্টি জগতের কোনো একটিকে ও অহেতুক সৃষ্টি করো নাই। অতএব আমাদেরকে দোযখের কঠিন ভয়াবহ শাস্তি থেকে মুক্তি দাও। (সুরা ইমরান 111) এত সৃষ্টির রহস্য নিয়ে চিন্তাভাবনার যোগ্যতা ও সুযোগ যার নেই তাকে লক্ষ্য করে আল্লাহ বলেন, فَلْيَنظُرِ الْإِنسَانُ مِمَّ خُلِقَ-خُلِقَ مِن مَّاءٍ دَافِقٍ-يَخْرُجُ مِن بَيْنِ الصُّلْبِ وَالتَّرَائِبِ-إِنَّهُ عَلَىٰ رَجْعِهِ لَقَادِرٌ মানুষের ভেবে দেখা উচিত তাকে কোন সে জিনিস থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে, তাকে তো সৃষ্টি করা হয়েছে পৃষ্টদেশ ও বক্ষদেশ থেকে নির্গত এককাতরা পানি থেকেই। যিনি তাদেরকে এভাবে সৃষ্টি করেছেন তিনি তাদেরকে মৃতুর পর পুনরায় জীবিত করতে অবশ্যই সক্ষম” (সুরা তারিক 5-8) আল্লাহ তায়ালা আর বলেন, الَّذِينَ يَذْكُرُونَ اللَّهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَىٰ جُنُوبِهِمْ وَيَتَفَكَّرُونَ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هَـٰذَا بَاطِلًا سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ আসমান জমিনের সৃষ্টি রহস্য ও দিবা রাত্রির পরিবর্তন ও পরিবধনের মধ্যে শয়নে স্বপনে সবার্বস্থায় আল্লাহর যিকির করে এবং আসমান জমিনের সৃষ্টি রহস্য নিয়ে চিন্তা ভাবনা করে।” (সুরা ইমরান 191) 

আল্লাহর নিয়ামতের গবেষণা মাটির পৃথিবীতে করা আমাদের সকলের কর্তব্য। এই অগনিত অফুরন্ত নিয়ামত আল্লাহর একত্বের তাওহীদের সাক্ষ দিচ্ছে আমার চোখ, কান, জ্বিহবা, আমার নাক, হাত পা, আমার মাথা, আমার মন, মগজ তথা দেহের প্রতিটি সেল আল্লাহর একক দান, যার কোন একটি বিকল হয়ে গেলে তার বিকল্প ব্যবস্থা করার সাধ্য কারো নেই। এ দুনিয়ার আলো বাতাসে আমার তিলে তিলে বড় হওয়া। মানুষ হবার পিছনে আমার মা, ও বাপের আদর যত্ন সেও অপূর্ব নিয়ামত, যার বর্ণনা মানুষের বাষায় সম্ভব নয়। আমরা এই পৃথিবীতে নগন্য ক্ষনস্থায়ী নিয়ামতের অভূত কারুকার্যতার দিকে সামান্য একটু দৃষ্টি দিয়ে দেখি। আল্লাহ কতো বড়ো মহান স্রষ্টা, আর আল্লাহকে বাদ দিয়ে মানুষ যে মাখলুকের দাসত্ব গোলামী করে তাকে তারা কতো শক্তিহীন। আপনার থালায় আম আছে কাঁঠাল আছে পেঁপে আছে কলা আছে, আছে কিছু পেয়ারা ও এবার সুস্বাধু সুমিষ্ট এই ফল গুলো নিয়ে যারা গবেষণা করে থাকে তাদের জিজ্ঞাসা করুন আমের সাধ কাঠালের মধ্যে আর কেউ সৃষ্টি করতে পারে? দুনিয়ার এই বৈষয়িক নিয়ামতের পাশা পাশি আল্লাহ তায়ালার সর্বশ্রেষ্ট নিয়ামত হলো আলকুরআন। নিয়ামত দান কারী আল্লাহ রাহমানুর রাহীম দয়া করে মেহেরবানী করে মানুষকে কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর অফুরন্ত নেয়ামতের তালিকায় কুরআন হলো শীর্ষস্থানীয়। 

আল্লাহ তায়ালার সঠিক মারিফাত বা সঠিক পরিচয় মানুষের সামনে উৎঘাটিত হবার সাথে সাথে তার মন স্বতরর্ফূতভাবে আল্লাহর উবুদিয়াত গ্রহন করবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ হে আল্লাহ আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং কেবল মাত্র তোমারই সাহায্য কামনা করি।” (সুরা ফাতিহা 5) হযরত ইবরাহীম (আঃ) তারকা নিয়ে গবেষনা করলেন, চন্দ্র, সূর্য চিন্তা ভাবনা করলেন তার কাঠে স্পষ্ট হলো এ সবের একটিও রব বা ইলাহা হতে পারে না। তাই তিনি তার জাতিকে সুস্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন,فَلَمَّا رَأَى الشَّمْسَ بَازِغَةً قَالَ هَـٰذَا رَبِّي هَـٰذَا أَكْبَرُ ۖ فَلَمَّا أَفَلَتْ قَالَ يَا قَوْمِ إِنِّي بَرِيءٌ مِّمَّا تُشْرِكُونَ-إِنِّي وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ حَنِيفًا ۖ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ হে আমার জাতি তোমরা যেসব কিছুকে আল্লাহর শরীক সার্ব্যস্ত করছ আমি সে গুলো থেকে নিজেকে মুক্ত ঘোষণা করছি। আমি সব কিছু থেকে আমার সর্ম্পক ছিন্ন করে একমূখী হয়ে ধাবিত হচ্ছি সেই আল্লাহর দিকে যিনি আসমান জমীনের স্রষ্টা।” (সুরা আনয়াম 78-79) এভাবে হযরত মুসা (আঃ) কে আল্লাহ তায়ালা তাঁর মারিফাত বা পরিচয় সর্ম্পকে জানালেন,إِنَّنِي أَنَا اللَّهُ لَا إِلَـٰهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدْنِي وَأَقِمِ الصَّلَاةَ لِذِكْرِي নিশ্চিত জেনে নাও আমিই আল্লাহ, আমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। অতএব একমাত্র আমার ইবাদত কর নামায কায়েম কর আমাকে স্বরণ রাখার জন্যে।” (সুরা ত্বাহা-14) 

আল্লাহর প্রকৃতি দাসত্ব ও বানে বন্দেগীর কাজটা কিভাবে করতে হবে এর ব্যাপারে হযরত মুসা (আঃ) কে আল্লাহ তায়ালা যে নির্দেশ দিলেন, আল্লাহ তায়ালা মুসা (আঃ) কে প্রথমে জানালেন যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ বা সাবভৌম ক্ষমতার অধিকারী কেউ নেই এবং একমাত্র তাঁরই ইবাদত বা দাসত্ব করতে হবে। এভাবে আল্লাহকে মানার এবং কেমল মাত্র তারই দাসত্ব বা গোলামীরি নির্দেশের আওতায় হযরত মুসা (আঃ) তৎকালিন শৈরাচারী শাসক ফিরাউনের দরবারে যাবার নির্দেশ দেয়া হলো। বলা হচ্ছে “ সে আমার রাজত্বে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে”। এভাবে আল্লাহর ইবাদত করায় পথে বাঁধা প্রতিবন্ধকতা হলো। খোদাহীন বা খোদাদ্রোহী বাদশা। সুতরাং ঐ রকম জালিম শাসককে আল্লাহর অনুগত বানানো বা পরাজিত করে আল্লাহর দ্বিনকে বিজয়ী করার নামই সঠিক অর্থে আল্লাহর উবুদিয়াত গ্রহণ করা।

আল্লাহ তায়ালার সাথে বান্দার সঠিক সর্ম্পক গড়ে তোলার জন্যে উবুদিয়াতের এই কঠিন দায়িত্ব যুগে যুগে পালন করেছেন নবী, রাসুলগণ। আর নবী রাসুলদের অনুসারী হিসেবে যারা এই দায়িত্ব আনজাম দিয়েছেন আলকুরআনে তার সিদ্দিকীন শুহাদা এবং সালিহিন নামে পরিচিত। আল্লাহকে রব বা মুনীব মানায় নিজেকে একমাত্র তারই বান্দা বা দাস বানানোর আসল তাৎপর্য এবং অনিবার্য দাবি যে এটাই এ কথা বুঝাবার জন্য বেশি দুর যাবার প্রেয়োজন হয় না। কালিমা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুর মধ্যেই এর সুস্পষ্ট ঘোষণা বিদ্যমান। আল্লাহ বলেন এভাবে যারা খোদাদ্রোহী শক্তিকে অস্বীকার করে আল্লাহর প্রতি ঈমানের ঘোষণা দেয় তারাই মজবুত রজ্জু আকড়ে ধরে যা কখনও ছিন্ন হবার নয়। (আল কুরআন) 

সুতরাং মহান রাব্বুল আলামীনের নৈকট্য লাভের একমাত্র উপায় বা অবলম্বন হলো তাঁর দেয়া বিধান ও তাঁর রাসুলে সুন্নত  মোতাবেক চলতে পারলে মানব জাতি তাঁর নৈকট্য লাভে সক্ষম হবে আমিন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here