মুহাম্মদ (সা:) যে মহান চরিত্রবলীর অধিকারী হয়ে প্রেরিত হয়েছেন। তম্মধ্যে লজ্জাশীলতা অন্যতম। এটি ঈমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা। এ কথা সর্বজন স্বীকৃত যে, নারীর পক্ষে স্বীয় মান মর্যাদা রক্ষা কল্পে নিজেকে ফেতনা, অশ্লীলতা ও অমর্যাকর যাবতীয় আচরণ থেকে দূরে রাখা, লজ্জাশীলতারই বহি:প্রকাশ। যা ইসলামী শরিয়ত ও সামাজিকতার দৃষ্টিকোণে প্রতিটি নারীর জন্যে অপরিহার্য ।
মানুষ সৃষ্টি সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, لَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنسَانَ فِي أَحْسَنِ تَقْوِيمٍ আল্লাহ তায়ালা মানুষকে অতি উত্তমরূপে গঠন করেছেন। (সুরা ত্বীন, আয়াত 4) আশরাফুল মাখলুকাতকে উত্তম সাজে সজ্জিত করার জন্য আল্লাহ রেশম, পশম, ও কার্পাসের মত নানা অতি উত্তম বস্তু সৃষ্টি করেছেন। যাতে মানুষ আবহাওয়ার প্রয়োজনানুসারে নিজ নিজ রুচি প্রকৃতি অনুসারে আল্লাহর বিধানে শালীন পোশাকের সজ্জায় সজ্জিত হয়ে সভ্য জীবন যাপন করতে পারে এবং সমাজকে করতে পারে আলোকিত।
আবহাওয়ার ধরন শারীরিক গঠনের পোশাকের ব্যবহার উপযোগিত নির্ভর করে। যেহেতু আল্লাহ তায়ালা পুরুষের পোশাকের জন্য এমন সব বিধান নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন যাতে পোশাক তার দ্রুত গতিতে, শক্তি প্রয়োগে এবং ক্ষীপ্রতার বিঘ্ন না ঘটায়। অপরদিকে নারীর জন্য এমন বিধান নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন যাতে পোশাক দ্বারা নারী তার শারিরীক নমণীয়তা এবং কমণীয়তা আবহাওয়ার রুদ্রতা থেকে রক্ষা করে তার নমণীয়তা যেন উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পায়।
নান দেশের নানা আবহাওয়ায় এবং জলবায়ুতে শারীরিক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নান ধরনের পোশাক প্রয়োজন হতে পারে। তাই আল্লাহ পাক পোশাকের কোন বিশেষ ধরণ নির্দিষ্ট করে দেয়নি। তিনি সাট, পায়জামা, লুঙ্গি, প্যান্ট, শাড়ি, ব্লাউজ, শালওয়ার, কামিজ ইত্যাদি কোন কিছুই উল্লেখ করেননি। আল্লাহ তায়ালা শুধু রাকা-ঢাকার সভ্য আচরণের জন্য শালনি পরিচ্ছদ দ্বারা শরীর রক্ষণাবেক্ষণের প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন।
আল্লাহ বলেন, وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَىٰ তোমরা নিজেদের বাসগৃহে শক্তভাবে আসন গ্রহণ করে থাক। পূর্ববর্তী জাহেলী যুগে স্ত্রীলোকেরা যেরূপ নিজেদের রূপ ও সৌন্দয্য প্রকাশ্যভাবে দেখিয়ে বেড়াত, তোমরা তা কস্মিকালেও করিও না। (সুরা আহযাব, আয়াত 33)
পোশাকের বিভিন্নতা
বিশ্বময় কতলক্ষ টেইলাস বা দর্জি মানুষকে সুন্দর ভুষণে সজ্জিত করার জন্য হাজার হাজার বস্ত্র খন্ড কত প্রকার কেটে ছেটে জামা কাপড় সেলাই করছে কিন্তু মানুষের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে তাতেও তৃপ্ত হচ্ছে না। অথচ আল্লাহ তায়ালা একবার মানুষের শারীরিক গঠন নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন তাতে আর কোন দিন কাটছাট বা পরিবর্তন করার দরকার পড়েনি। মানুষ যতই নিত্য নতুন ফ্যাশনের পোশাক পরিধান করছে ততই তার মন ভরছে না। কেননা প্রাকৃতিক বিধান ছেড়ে অতি প্রাকৃতিক হতে গিয়ে মানুষ কখনও সফলকাম হতে পারে না বা আশা করা যায় না।
আল্লাহ বলেন, فَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفًا ۚ فِطْرَتَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا ۚ لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ ۚ ذَٰلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ وَلَـٰكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ অনন্তর সত্য ধর্মের দিকে মুখ স্থাপন কর, আল্লাহর সৃষ্টি প্রকৃতি অনুসারে তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। তাই সত্য ধর্ম আল্লাহর সৃষ্টির কোন পরিবর্তন নাই, কিন্তু অধিকাংশ লোক তা জানেন না। (সুরা রুম, আয়াত 30) যে পোশাক মানুষের একমসয় লজ্জাস্থানকে আড়াল করে রাখত, এখন সে লজ্জাস্থান দ্বারা সেই পোশাকের আড়াল করেও মানুষের সাধ মিটে না। প্রকত পক্ষে লজ্জা নিবারণের মধ্যেই মানুষের প্রকৃত সৌন্দর্য নিহিত। পোশাক হচ্ছে সভ্যতার অহংকার। অপসংস্কৃতির আকর্ষণ শীতের দেশের মেয়েরা বিকিনি পরে ঠক ঠক করে কাঁপছে। আর গরম দেশের ছেলেরা স্যুাট টাই পরে দর দর ধারায় গামছে।
চীন, জাপান, বার্মার খানদানী মেয়েরা ইবনো নাসব যে পোষাব পরে তার মাঝে ফ্যাশন এবং শালীনতার অপূর্ব সমন্বয় রয়েছে। ইকনো তাদের আভিজাত্যের পরিচয় বহন করে। এতে ইসলামী পদ্ধতির সব টুকু বর্তমান, অবশ্যই তারা ইসলামের গরজে ঐ পোশাক পরে না। শুধু শালীণতার জন্য শুধু সভ্য হওয়ার জন্য ঐ পোশাক পরে থাকে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, وَاللَّهُ جَعَلَ لَكُم مِّمَّا خَلَقَ ظِلَالًا وَجَعَلَ لَكُم مِّنَ الْجِبَالِ أَكْنَانًا وَجَعَلَ لَكُمْ سَرَابِيلَ تَقِيكُمُ الْحَرَّ وَسَرَابِيلَ تَقِيكُم بَأْسَكُمْ ۚ كَذَٰلِكَ يُتِمُّ نِعْمَتَهُ عَلَيْكُمْ لَعَلَّكُمْ تُسْلِمُونَ আল্লাহ তাঁর সৃষ্টি বস্তু হতে তোমাদের জন্য ছায়ার এবং আশ্রয়ের জন্য পবর্তমালা তৈরি করেছেন, এবং তোমাদিগকে গরম হতে রক্ষা করতে তোমাদের জন্র জামা প্রস্তুত করে দিয়েছেন, এবং সে জামা তোমাদেরকে যুদ্ধ হতেও রক্ষা করবে। (সুরা নাহল, আয়াত 81)
পর্দার পরিবেশ
পর্দা প্রগতির অন্তরায়, তথাকথিত প্রগতিবাদীরা এই শ্লোগান দিয়ে বেড়াচ্ছে। সমাজে পর্দাহীনতার তান্ডব এমন ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করে যে, পত্র পত্রিকার পাতায়, সিনেমায়, টেলিভিশনের পর্দায়, নারী-পুরুষের সম্মিলিত সভা সমিতিতে, সড়ক, মহাসড়কে, দোকানে, পার্কে. হোটেলে, অফিস আদালতে, হাসপাতালে ও উড়োজাহাজে সুন্দর চেহারাগুলোর অবশ্যই ঝকমক করতে থাকা চাই।দর্জির নতুন নতুন ডিজাইনের পোশাক তৈরি করে নিত্য নতুন ফ্যাশনের উদ্ভ হয়, মীনা বাজারে ফ্যাশন প্রদর্শনী হয়, অনুষ্ঠানাদিতে বিউটি পার্লারের বানানোর সাজগোজ দেখিয়ে দর্শকদের চোখ ছানাবড়া করা হয়, সুগন্ধীর ফোয়ারা ছিটানো হয়, চুলের নতুন নতুন স্টাইল করা হয়। এর ফলে সমাজে দু রকম ফলাফল দেখা যায়।
একদিকে দরিদ্র বঞ্চিত ও নবীর শ্রেণির মধ্যে ভেতর ভেতরেই তীব্র উত্তেজনার জোয়ার উঠতে থাকে। ফলে যন্ত্রতন্ত্র ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। অপরাধীদের মনস্তত্ব ও পরিবেশের তর্থানুসন্ধানী বিশেজ্ঞরা কখনও ভেবে দেখেন নি। যে, নারীদেরকে সাজিয়ে গুজিয়ে প্রতিদিন ক্ষুধিত চোখের সামনে ঘুরালে মনস্তাত্ত্বিক ঘুর্ণিবার্তার সৃষ্টি হয়। শুধু আক্রমণকারী অপরাধীদেরকে সাজা দিলে তা হবে না। অথচ যে পরিবেশে তাদেরকে উস্কে দেয় এবং যে নারীরা পরিবেশের উত্তেজনা ছড়ায়, তাদেরকে কিছুই বলা হবে না, এটা কোন ধরণের ইনসাফ।
অবাধ মেলামেশা
নারীর অবস্থান ও মর্যাদা সম্পর্কে আমাদের ধ্যাণ ধারণা ও অনুভূতি কি সঠিক ? পৃথিবীর জাতিসমূহের বিকৃতি দুভাবে ঘটে । এক, ধনসম্পদের ব্যপারে দৃষ্টিভঙ্গি অবলম্বন, দুই, নারী সঠিক অবস্থান নির্ণয়ে ব্যর্থতা। অন্যদিকে মহান আল্লাহর সাথে মানুষের সম্পর্ক নির্ণয়ে ব্যর্থতা। যা কিছু বিকৃতি হচ্ছে তা আল্লাহর হোদায়াত থেকে বিপথগামী হবারই কুফল। পর্দাহীনতা ও নর-নারীর অবাধ মেলামেশার প্রচলনও একারণেই হচ্ছে। আধুনিক মহিলারা কখনও জানতে চাননি যে, আল্লাহ ও তার রসুলের আদেশ নিষেধ কী কী, তাদের পরিবারের পুরুষরাও পরিবার পরিচালনার ক্ষেত্রে কুরআন ও হাদিসের দিক নির্দেশনা গ্রহণ করেনি। আর আমাদের শাসক শ্রেণিও কখনও চিন্তা করেনি যে, নারী প্রগতির পাশ্চাত্য রীতি-নীতি ও কৃষ্টি তাদের ধর্মীয় মূলনীতি ও উদ্দেশের পরিপন্থী।
এক সময় সমরখন্দ ও বোখারায় রাশিয়া বলপূর্বক মহিলাদেরকে ঘর থেকে বের কের পর্দা ছুড়ে ফেলতে বাধ্য করেছে। কেননা পর্দানশীল, অন্তপুর বাসিনী, কুরআন অনুযায়ী মহিলারা থাকতে মুসলিম পরিবার গুলোর ঘরোয়া প্রশিক্ষণালয়কে পাল্টানো সম্ভব নয়। এ কথা সন্দেহাতীতভাবে সত্য যে ঘরোয়া প্রশিক্ষণালয়কে পাল্টানো সম্ভব নয়। একথা সত্য নারীরা ঘরোয়া পরিবেশ থেকে বেরিয়ে এসে পর্দা বর্জন করে মূল্যবান পোশাক, মেকাপ সামগ্র এবং পুরুষের মিশ্র অনুষ্ঠানে খানাপিনা ও সম্বর্ধনা সভায় নিজেকে বিলিন করে দিয়েছে।, তার ব্যয়ভার বহন করার জন্য স্বামীর চাকারির টাকায় সম্ভব নয়, তাই স্বামীদের ঘুষ, চুরি ও অবৈধ মুনাফা খোরীর মাধ্যমে জাতির রক্ষ চুষে নিতে বাধ্য করে। ফলে আমার দেশে দুর্নীতির হার মাত্র কয়েক বছরে এতই বেড়েছে যে বিশ্বে দুর্নীনিতে আমার কয়েক বছর প্রথম স্থান অর্জন করেছি। পর্দাহীনতার ন্যায় অসৎ আচরণের কারণে নারীর অন্তর থেকে ক্রমে লজ্জা-শরম বিলুপ্ত হয়ে যায়, যা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত এবং নারী প্রকৃতির অন্যতম ভুষণ। তাই নারী লজ্জাশীলতার প্রতীক বলা হয়। নারীর লজ্জাহীনতা কেবলমাত্র দ্বীন ও ঈমান বিধ্বংসীই নয় বরং আল্লাহ তায়ালা যে প্রকৃতির উপর তাকে সৃষ্টি করেছেন, সেই প্রকৃতির বিরোধিতা বা স্বভাব দ্রোহীতাও বটে।
বেপর্দা নারীর কারণে পুরষদের জন্য ফিৎনা ও অশ্লীলতায় লিপ্ত হওয়া স্বাভাবিক ব্যপার। বিশেষত: যদি সেই নারী সুন্দরী ও তার সাথে ক্রীড়া কৌতুকে অভ্যস্থ হয়। এরূপ অশোভন আচরণ বেপর্দা নারীর সাথে বেশি সংঘটিত হয়েছে। মানুষের চিরশক্র শয়তান, মানব দেহে রক্তের ন্যায় শিরা উপশিরায় চলাচল করে। নারী পুরুষের পারস্পরিক হাসি-তামাসা-ঠাট্রা ও কথ-বার্তার মাধ্যমে পুরুষ নারীর প্রতি কিংবা নারী পুরুষের প্রতি আসক্ত হওয়ায় সমাজে মঙ্গলের চােইতে অমঙ্গল সাধিত হয়েছে।
পোশাকের শাস্তি
রাসূলে পাক সা: নারীর পোশাক পদ্ধতির বিস্তৃত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। হযরত আবু বকর রা: এর কন্যা আসমা একদিন রাসূল সা: এর নিকট গিয়েছিলেন তার দেহে ছিল সুক্ষ বজ্র রাসূল সা: তাকে বললেন, 'হে আসমা মেয়ে লোক যখন পূর্ণ বয়স্ক হয়ে যায়, তখন তার মূখমন্ডল ও হাতের পাঞ্জাদ্বয় ব্যতীত দেহের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কোন কছুিই দৃশ্যমান হওয়া বাঞ্ছনীয় নয়। (সুনানে আবু দাউদ) নারী জাতির আপদমস্তক ঢাকিয়া রাখিবার বস্তু যখনই তাহারা বেপর্দায় বাহির হয় তখন শয়তান তাহাদের পাছে উকি ঝঁকিতে লাগিয়া যায়।(তিরমিযি) রাসূল (সা:) বলিয়াছেন, 'যদি কেহ বেপর্দায় চলে তাহার উপর আল্লাহর গযব এবং যে দেখিবে তাহার উপরও আল্লাহর গযব। (বায়হাকী) রাসূল সা: বলেন, 'যে পুরুষ মেয়েলোকের বেশ ধারণ করবে, আর যে মেয়েলোক পুরুষের বেশ ধারণ করবে তারা কেউই আমর উম্মতের মধ্যে গন্য নয়। (মুসনাদে আহমদ) রাসূল (সা:) আরও বলেন, 'যে পুরুষ মেয়েদের পোশাক পরিধান করে আর যে মেয়েলোক পরে পুরুষের পোশাক রাসূল সা: তাদের উপর অভিশাপ বর্ষণ করেছেন। (মুসনাদে আহমদ) 'আমরা নাযিল করেছি লজ্জাস্থান আবৃতকারী পোশাক এবং গৌরবমন্ডিত পোশাক যা পরে তোমরা শোভামন্ডিত হবে। (মাজহারী ৩য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৩৮৪) হযরত আবদুল্লাহ ইবেন আব্বাস (রা:) বর্ণনা করেন, বিধায় হজের সময় তার ভ্রাতা ফজল বিন আব্বাস রা: রাসুলের সাথে সওয়ারীর পিছনে উপবিষ্ট ছিলেন, ইতিমধ্যে খুসআম গোত্রের জনৈকা মহিলা রাসুলে সমীপে উপস্থিত হলে ফজল মহিলার প্রতি তাকাচ্ছিলেন এবং মহিলাও ফজলের প্রতি দৃষ্টি প্রদান করেছিল, তখন রাসুল সা: ফজল ইবনে আব্বাসের চেহারা অন্যদিকে ফিরিয়ে দেন। (বুখারী শরীফ) মানুষ যত নম তত কুৎসিত। লজ্জাস্থান ঢেকে রাখার জন্য পোশাকের যতটুকু প্রয়োজন মানুষের শরীরের দোষত্রুটিগুলো ঢেকে রাখার জন্যও পোশাকের ততটুকু প্রয়োজন। হীন প্রবৃত্তির মানুষটিও যখন শালীন পোশাক পরিধান করে তখন পোশাকের শালীনতায় তার আচরণকেও প্রভাবিত করে এবং শুধু পোশাকের খাতিরে নিতান্তই অভদ্র মানুষটিও ভদ্র আচরণ করতে হয়। সুতরাং শালীন পোশাক মানুষের শারীরিক সৌন্দর্য এবং মানসিক পবিত্রতা নিশ্চিত করে থাকে এবং তার মাধ্যমে মানব সভ্যতার উৎকর্ষ সাধিত হয়।
সমাজ ব্যবস্থার কুফল
নারী পুরুষ কী কী পোশাক পরিধান করবে এ ব্যাপারে নির্ধারিত কোন পোশাকের কথা ইসলাম উল্লেখ করে দেয়নি। কিন্তু পোশাকের কিছু নীতিমালা নির্ধারণ করে দিয়েছে এবং সেই সাথে পোশাকের লক্ষ্য উদ্দেশ্য বলে দিয়েছে। মহান আল্লাহ সুরা আ'রাফে আল্লাহ বলেছেন, يَا بَنِي آدَمَ قَدْ أَنزَلْنَا عَلَيْكُمْ لِبَاسًا يُوَارِي سَوْآتِكُمْ وَرِيشًا ۖ وَلِبَاسُ التَّقْوَىٰ ذَٰلِكَ خَيْرٌ ۚ ذَٰلِكَ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ لَعَلَّهُمْ يَذَّكَّرُونَ "হে বনি আদম ! আমি তোমাদের জন্য পোশাক অবতীর্ণ করেছি, যা তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করে এবং অবতীর্ণ করেছি সাজসজ্জার বস্ত্র এবং পরহেজগারির পোশাক, এটি সর্বোত্তম। (সুরা আরাফ, আয়াত ২৬) অন্যদিকে বেহায়াপনা, বেলেল্লাপনা ও উলঙ্গপনাকে হারাম হয়েছে। একই সুরায় আল্লাহ বলেছেন, قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّيَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَالْإِثْمَ وَالْبَغْيَ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَأَن تُشْرِكُوا بِاللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَانًا وَأَن تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ আপনি বলে দিন, আমার পালনকর্তা প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীল বিষয়গুলো হারাম করেছেন। এটি আল্লাহর কুদরতের অন্যতম নিদর্শন, যাতে তারা চিন্তাভাবনা করে। (সুরা আরাফ, আয়াত ৩৩) সুন্দর, সুশৃঙ্খল, সভ্য ও রুচিশীল সমাজ বিনির্মাণে গড়াব নির্ধারিত পোশাকের নীতিমালা মান্য করা আবশ্যক। আজকাল আমরাপোশাক সংস্কৃতির সভ্যতা ভুলে গেছি। ছেলে মেয়েরা এমন অনেক পোশাক পরেন যাতে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, স্থান, কাল, পাত্র কোন কিছুই খেয়াল রাখছি না। একজন মুসলমানের পোশাক কেমন হওয়া উচিত তা আমরা ভুলতে বসেছ। একজন মুসলমানের সার্বিক গেটআপ ও পরিচ্ছদ কেমন হবে তা ইসলামের অনুসরণ না করে আমাদের ছেলেমেয়েরা পশ্চিমা সংস্কৃতি অনুসরণ করছে। যে পোশাক সংস্কৃতি বেহায়াপনা, বেলেল্লাপনা ও যৌনাচারকে উসকে দিচ্ছে। যে পোশাক মানুষের স্বাভাবিক লজ্জাবোধকে ক্রমশ বিলুপ্ত করে দিচ্ছে। যে পোশাক মানুষকে পর্যায়ক্রমে পশুত্বের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। যুবসমাজের চারিত্রিক ইভটিজিং, উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ায় অমনযেগিতা, পরীক্ষায় কোন রকমে পাস করা, ঝরে পড়া, নেশাগ্রস্ত হওয়া ইত্যাদির পিছনে উগ্র পোশাক অনেকাংশে দায়ী তা যেন আমাদের সমাজের দায়িত্বশীল মানুষ বুঝেও না বুঝার ভান করে বসে আছে। রাস্তাঘাটে উঠতি বয়সের কিছু ছেলেমেয়েদের দেখা যায় তাদের মাথার চুল উল্কখুষ্ক, শর্ট শার্ট পরা, জিন্সের প্যান্ট কোমরের নিচের দিকে পরা, হাত একটু উঁচু করলে লজ্জাস্থানের কিয়দংশ দেখা যায়। প্যান্টের নিচের অংশ পায়ের পাতার নিচে পড়ে থাকে। অনেকটা ঝাড়ুদারের কাজ করে। দাড়ি কেটে মুখের বিশেষ বিশেষ জায়গায় এমনভাবে রাখে যেটা নিশ্চিত কোন ইহুদি খ্রিষ্টান, হিন্দু অথবা তথাকথিত মুসলিম নায়ক বা কণ্ঠশিল্পীরা রেখে থাকে। এগুলো নাকি ওই সব ছেলেদের আধুনিক, প্রগতির ফ্যাশন। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে এগুলো শয়তানের ফ্যাশন। কেননা জনৈক সাহাবি উল্কখুষ্ক চুল নিয়ে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর কাছে এলে রাসূলুল্লাহ সা: বললেন, তোমাকে শয়তানের মত দেখাচ্ছে, তুমি চুল আঁচড়িয়ে আসো ? ওই সাহাবি চলে গেলেন এবং চুল আঁচড়িয়ে রাসূলুল্লাহ সাঃ এর সামনে এলেন। রাসূলুল্লাহ সা: আরো বললেন, যেসব পুরুষ অহঙ্কারের (ফ্যাশনের) জন্য টাকনুর নিচে কাপড় পরে মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাদের দিকে রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না। রাস্তাঘাটে উঠতি বয়সের কিছু ছেলেমেয়েদের দেখা যায় তাদের মাথার চুল উল্কখুষ্ক, শর্ট শার্ট পরা, জিন্সের প্যান্ট কোমরের নিচের দিকে পরা, হাত একটু উঁচু করলে লজ্জাস্থানের কিয়দংশ দেখা যায়। প্যান্টের নিচের অংশ পায়ের পাতার নিচে পড়ে থাকে। অনেকটা ঝাড়ুদারের মত আমরা যদি সন্তানদের উগ্র পোশাক পরতে দিই তাহলে আমাদেরই পস্তাতে হবে। আমাদের আরব্য কবির একটি উক্তি মনে রাখা দরকার তাহল ইন্নাকা লা তাজনি মিনাশ শাওকিল ইরাব অর্থাৎ তুমি কাঁটাযুক্ত বৃক্ষ থেকে কখনও আঙ্গুর ফল পাবে না। ছেলেমেয়েদের আমরা যেভাবে গড়ে তুলব পরে তাদের কাছ থেকে তাই পাব।
চারিত্রিক অবক্ষয়ের নানাবিধ কারণ রয়েছে। অশ্লীল সিনেমা, নাটক, যাত্রা, ভ্যারইটি শো, ইন্টারনেট, মোবাইল ইত্যাদি উপকরণ একেকটি অবক্ষয়ের শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। অথচ এসবই উন্নত জাতি গঠনে ভূমিকা রাখতে পারত। উল্লিখিত হাতিয়ারের পাশাপাশি পোশাক অপসংস্কৃতি সহযোগী হাতিয়ার মাত্র। কারণ পোশাক অপসংস্কৃতির আগমন এই হাতিয়ার থেকেই। কিন্তু একজন মুসলাম হিসেবে আমরা পোশাক কেমন হওয়া উচিত? একজন বাংলাদেশ হিসবে আমার পোশাক কেমন হওয়া উচিত তা কি আমরা একবার লক্ষ করছি। আসলে আমাদের ছেলেমেয়েরা যা পরিধান করে তা মুসলামানের পোশাকও নয়, বাংলাদেশী পোশাকও নয়। কারণ বাংলাদেশের পুরুষের জাতীয় পোশাক পাজামা পাঞ্জাবী। আর মহিলাদের শাড়ি। কিন্তু প্রশ্ন হলে এ ছাড়া কি আর কোন পোশাক পরিধান করবে না? অবশ্যই করবে। ইসলাম নারী পুরুষের পোশাকের মূলনীতি সুস্পষ্টভাবে বলে দিয়েছে। ইসলামের পোশের আটটি মূলনীতি রয়েছে :
পোশাক পরিচ্ছদ টাইট বা আটসাট হওয়া চলবে না। পোশাক হতে হবে ঢিলেঢালা। এমন পাতলা বা ফিনফিনে কাপড় পড়া যাবে না যে কাপড় পরার পর লজ্জাস্থান দেখা যায। নারী পুরুষের এবং পুরুষ নারীর পোশাক পরিধান করা যাবে না। রাসূল (সা:) বলেছেন ঔইসব পুরুষকে লানত করছেন যে পুরুষ নারীর পোশাক পরে, আবার ঔইসব নারীকে লানত যে নারী পুরুষের পোশাক পরে। পুরুষের স্বর্ণ অলঙ্কার পরা যাবে না। স্বর্ণ পুরুষের জন্য হারাম। পুরুষের রেশমি কাপড় পরিধান করা যাবে না। এটা পুরুষের জন্য হারাম । রসুল (সা:) বলেছেন, যে ব্যক্তি দুনিয়াতে রেশমি কাপড় পরিধান করবে আখেরাতে তার জন্য কোন অংশ নাই।| বিজাতীয় পোশাক পরিধান করা যাবে না। অন্য ধর্মাবলম্বিদের নির্ধারিত ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার করা যাবে না। রসুল (সা:) বলেছেন, যে ব্যক্তি অন্য কোন জাতির অনুসরণ করবে সে সেই জাতির উম্মত হিসেবে গন্য হবে। রসুল (সা:) আরও বলেছেন, লানত বর্ষিত হোক সেই সব নারীর উপর যারা উল্কি একে নেয় এবং যারা উল্কি আকায়, যারা চুল উঠিযে ফেলে, ভ্রু-প্লাক করে, সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য দাঁত কেটে চিকন করে, দাঁতের মধ্যে ফাকা সৃষ্টি করে যা আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে পরিবর্তন এনে দেয়। বেশি চাকচিক্য পোশাক পরিধান করা যাবে না। যাতে বিপরীত লিক্ষকে আকৃষ্ট করে। নারী পুরুষ উভয়ই পরনারী বা পর পুরুষকে আকৃষ্ট করার জন্য বেশি চাকচিক্য পোশাক পরিধান করা যাবে না। পুরুষের চাকনুর নিচে পোশাক পরিধান করা যাবে না। আজকাল অধিকাংশ পুরুষকে দেখা যায় তার তাদের প্যান্ট পায়ের পাতা পর্যন্ত ঝুলে দেয়। রাসুল (সা:) বলেছেন, যেসব পুরুষ অহঙ্কার (ফ্যাশন) এর জন্য টাকনুর নিচে কাপড় পরে আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাদের দিকে রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না।(পোশাকের রুচিবোধের অবক্ষয়, ড. মোহাম্মদ শওকত আলী, নয়া দিগন্ত, ঢাকা 4মে 2012)


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন