জাতিসত্ত্বার ভিত্তি
বহু বিচিত্র রক্তের সংমিশ্রনে একটি সংকর জাতি হিসেবে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশীরা আদি সেমেটিক দ্রাবিড় রক্তের সাথে মিশেছে অষ্ট্রালয়েড় মঙ্গোলীয়, আর্য রক্তের ধারা নৃতাত্ত্বিক বিবেচনায় বিশেষ কাউকে স্বতন্ত্রভাবে চিহিৃত করা না গেলেও এখানকার গরিষ্ট মানুষের মিল রয়েছে তাদের জীবন দৃষ্টিতে এই গরিষ্ট মানুষের জীবন চেতনা আদর্শ বিশ্বাস এব দৃষ্টিভঙ্গিই জাতীয় ঐক্যের প্রতীক, জাতি সত্ত্বার ভিত্তি।
বাঙ্গালী জাতির প্রতিষ্ঠাতা
অতীতের বঙ্গভূমি গড়ে উঠেছিল পন্ড, বরেন্দ্র, গৌড়, কর্ণসুবর্ণ, রাঢ় সুক্ষ তাম্রলিপ্ত,বঙ্গ,সমতটা হরিকেল এই সব জনপদ নিয়ে এই কয় জনপদ একত্রিত করে সর্ব প্রথম ‘বাঙ্গালা’ নাম দেন সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াছ শাহ (1342- 1357) তাই ঐক্যবদ্ধ বাঙ্গালী জাতির প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে নিঃসন্দেহে বলা যায় ইলিয়স শাহের নামইতিহসে তার নামের আগেই দেখা যায় সর্ব প্রথম শাহই বাঙ্গালা আর তার সৈন্য বাহিনীর নাম ছিল ‘বাঙ্গালা পাইক’ইতিপূর্বে বাংলদেশের কোনো কোনো জনপদের রাজা বাদশাগণ কখনো কখনো বিশাল শক্তির অধিকারী ছিলেনতারা তাদের রাজ্যের পরিধি বাংলার বাইরে অনেক দুর পর্যন্ত বিস্তৃত করেছিলেন কিন্তু সমগ্র বাংলা অঞ্চল তথা বাংলা ভাষা ভাষী বিশাল ভূভাগ নিয়ে ইলিয়াস শাহের পূর্বেকেউ এককভাবে রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে পারেননিতিনি দিল্লি থেকে যেমন বাংলার স্বাধীনতা সংরক্ষণ করেন যাপরবর্তী দু’শত বছর পর্যন্ত স্থায়ী ছিলো তেমনি বাংলা ভাষা ভাষী জনগোষ্টিকে একটি জাতিতে পরিণত করেন যা তার সবচেয়ে বড় কৃতিত্বতিনি এমন একটি নামের পরিচিত করেন যা সার্বজনিন এবং পরবর্তী শত শত বছর জাতি যে নামে পরিচয় দিতে ‘বাঙ্গালীরা’ গর্ববোধ করেনতুবা এ দেশের নাম হতে পারতো গৌড়, সমতট, হরিকেল অন্যকিছুজাতি হিসেবে হয়তো পরিচিত হতো ‘বাঙ্গালী’ না হয়ে গৌড়ী সমতটা হরিকেল বা ভিন্ন কোনো নামে।
ঢাকা- ঢাকা বিশ্বের গুটি কয়েক মেগা সিটির অন্যতম মসজিদের শহর নামে খ্যাত ঢাকা মোট 4বার রাজধানী হওয়ার গৌরব অর্জন করে মোগল আমলেসুবাদার ইসলাম খাঁ কর্তৃক সর্বপ্রথম (1610 1717) বঙ্গ বঙ্গের সময় দ্বিতীয়বার (1905 1911) পাকিস্তান সৃষ্টির পর তৃতীয় বার (1947 1971) প্রাদেশিক রাজধানী এবং সর্বশেষ 1971 সাল থেকে অদ্যাবধি টি স্বাধীন সার্বভৗম দেশের রাজধানী ঢাকার সাথে দু’ব্যক্তির নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত অখ্যাত একজন বসতিকে ইসলাম খাঁ রাজধানী করে রাজনীতির কেন্দ্র বিন্দুতে আনেন বং স্যার সলিমুল্লাহ দ্বি খন্ডিত বঙ্গে রাজধানী করে ঢাকার পূর্ণজন্ম দেন 1906সালে তাঁর নেতৃত্বে ঢাকায় মুসলমাদের পপ্রথম সর্ব ভারতীয় রাজনৈতিক ফোরামমুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয় যে দল ভারতের স্বাধীনতা আনয়নে অগ্রনী ভূমিকা রাখেঢাকা 1864 এ পৌরসভা, 1978 এ পৌর কর্পোরেশন, 1989 এ সিটি কর্পোরেশনে রুপান্তরিত হয় ঢাকা রক্ষায় 1864 এ ফকল্যান্ড বাঁধ নির্মিত হয় 190সালে ঢাকায় প্রথম বিজলী বাতি সাপ্লাই দেয়া হয় 1874 এ চাঁদনী ঘাটে ওয়াটার ট্রেট সেন্ট কেন্দ্র গঠিত হয় 1964 সাল ঢাকায় নির্মিত গভর্নর হাউজটি 1972 সালে বঙ্গভবণে রুপান্তরিত হয় নানা ঘটনা ও বহু সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় আজকের বাংলাদেশ।
ইসলাম পূর্ব বাংলা
আর্য আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিন প্রতিরোধ এবং আর্য বিরোধীদের নিরাপদ ভূমিতে পরিনত হয়।গুপ্ত যুগে আর্যকরণ ও জাতিভেদে প্রথা প্রতিষ্ঠান পেলেও পলি যুগে আবার জনগন স্বাধীনতার স্বাদ পায়।বহিরাগত সেনরা ব্রাক্ষন্যবাদ প্রতিষ্ঠা করলে বখতিয়ার খিলজীর বিজয় অভিযান জনগনকে মুক্তি দেয়।
সুলতানী যুগ
1204 সালে মাত্র 17 জন অগ্রবর্তি অশ্ব বাহিনী নেয় বখতিয়ার খিলজীর বঙ্গ বিজয় ও লক্ষন সেনেরা বিক্রমপুরে পলায়ন 122227 হুসাস উদ্দিন ইওয়াজ খিলজীর দিল্লির বিরুদ্ধে স্বাদীনতা গোষনা ও স্বাধীন ভাবে রাজ্য মাসন 1338 ফখরুদ্দীন মোবারক শাহ কর্তৃক বাংলার স্বাদীনতা গোষনা 1342 শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহের ক্ষমতা গ্রহণ বাংলা বাষা ভাষি অঞ্চলকে একত্রিত করে স্বাধীনমুলকে বাঙ্গালা প্রতিষ্ঠা ও বাঙ্গালী জাতির পত্তন 1359 ফিরোজ শাহ তুঘলকের দ্বিতীয় বা লা অভিযান 1576 রাজামহনলালযুদ্ধে দাউদের পরাজয় (1583-99) সম্রাট আকবরের বিরুদ্ধে ঈশা খানের অবিরাম লড়াই আকবর সেনাপতি মান সিংহের পরাজয় 1579 ও সন্ধি স্থাপন।
মোঘল যুগ
মোঘল যুগে বাংলা একটা প্রদেশ হলেও এ অঞ্চলের প্রভূত্ত উন্নতি হয় 1610 সুবাদার ইসলাম খাঁ কর্তৃকঢাকায় (জাহাঙ্গীর নগর) রাজধানী স্থানান্তর1666 সালে শায়েস্তা খানের সুবেদারী আমলে চট্রগ্রাম অধকর ও ইসলামাবাদ নাম করণ1747 মুর্শিদকুলী খান বাংলার সুবাদর নিযুক্ত ও বাংলার রাজধানী মুর্শিদাবদেস্থানান্তর 1740 আলীবুর্দী খান বাংলার সুবাদার নিযুক্ত হন এবং 1756 সালে আলীবর্দী খানের মৃত্যু ও সিরাজুদ্দেীলার বাংলার সিংহাসন লাভ।
ইংরেজ আমল
১৭৫৭ পলাশীর যুদ্ধ (২৩ জুন) ও বাংলায় ইংরেজ কর্তৃত্বের সুচনা ১৭৬৪ বক্সারের যুদ্ধ ১৭৬০ ও ১৮০০ ফকির মজনু শাহের নেতৃত্বে ইংরেজ বিদ্রোহ ১৮১৮ ও ৬২ হাজী শরীয়তুল্লাহ ও তাঁর ছেলে দুদু মিয়া কর্তৃক ফরায়েজী আন্দোলন ১৮২১-৩১ অকুতভয় বীরসেনানী তিতুমীরের ইংরেজ জমিদার প্রতিরোধ আন্দোলন ও শাহদাত বরণ ১৭৫৭ হাবিলদাররজব আলী কর্তৃক সিপাহী বিপ্লবের সুচনা ও ব্রিটিশ বিরোধী মহা অভ্যুত্থান ১৮৬০ নীল বিদ্রোহ ১৯০৫ সালে নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে বঙ্গভঙ্গ ১৯০৬ সালে ঢাকায় মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা ১৯১১ বঙ্গভঙ্গ রদ ১৯২০ খেলাফত আন্দোলন ১৯২১ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা বর্ণ হিন্দুদের বিরোধীতা ১৯৪০ শেরে বাংলা কর্তৃক লাহরে প্রস্তাব পেশ।
ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীকার আন্দোলন
১৯৪৭ সালের ১৪ আগষ্ট ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্রের স্বাধীনতা লাভ ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর প্রিন্সিপ্যাল আবুল কাশেমের নেতৃত্বে তমুদ্দুন মজলিস গঠন ও ভাষা আন্দোলনের সুচনা হয় ১ লা অক্টোবর নুরুল হক ভুইয়াকে আহবায়ক করে রাষ্ট্র ভাষা সংগ্রাম পরিষদ কমিটি গঠিত হয় ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ রাষ্ট্র ভাষা বাংলার দাবীতে দেশব্যাপী ধর্মঘট পালন করা হয় অন্যদিকে ১৪ মার্চে গোলাম আযম গ্রেফতার করা হয়। ভাষা আন্দোলনেরমুখপাত্রঅধ্যাপকগোলামআযম ২৭ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানের নিকট রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবীতেস্বারকলিপি পেশ করেন। ১৯৫২ সালে উর্দুই হবে পাকিস্তানেররাষ্ট্রভাষাএরএর প্রতিবাদে সর্বদলীয় রাষ্ট্র ভাষা পরিষদ কর্তৃক ২১ ফেব্রুয়ারী ধর্মঘট ১৪৪ ধারা জারি করে ছাত্র সমাজের মিছিল পুলিশের গুলি বর্ষনে সালাম, জব্বার, রফিক, বরকত প্রমুখের শাহাদাত বরণের মাধ্যমে ১৯৫২ ভাষা আন্দোলনের চুড়ান্ত পর্ব।ভাষা আন্দোলনে যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন অন্মধ্যে কয়েকজন অলি আহাদ, আ: রহমান চৌধুরী, আব্দুল গফুর, সানা উল্লাহ নুরী, শাহেদ আলী, মোহাম্দ তোয়াহা, গাজীউল হক প্রমুখ ১৯৫৪ যুক্ত ফ্রন্টের বিজয় ১৯৬৬ আওয়ামীলীগের ছয় দফা পেশা ১৯৬৯ গণ অভ্যুত্থান আইয়ুব খানের পতন ১৯৭০ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের নিরস্কুশ বিজয় ১৯৭১ প্রথম বালাদেশের পতাকা উত্তোলন (২ মার্চ) কাল রাত্রি (২৫ মার্চ) স্বাধীনতা ঘোষণা (২৬ মার্চ) মজিব নগর অস্থায়ী সরকার গঠন (১৭ এপ্রিল) পাক হানাদার বাহিনীর আত্নসমর্পন ও বাংলাদেশের অভ্যুভয় (১৬ ডিসেম্বর)
বাংলাদেশের ঘটনা প্রবাহ
১৯৭২ সালে সংবিধান গৃহীত হয় ৪ নভেম্বর ও কার্যকরী করা হয় ১৬ ডিসেম্বর। এরপর প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ৭ই মার্চ ১৯৭৩ সালে অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৩টি আসন লাভ করে।১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারী বাকশাল গঠন করে একদলীয় শাসন কায়েম করে আওয়ামীলীগ।১৯৭৫ সালের ২১ এপ্রিল ফারাক্কা বাঁধ চালু করে ভারত এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কতিপয় বিপথগামী সৈনিকের হাতে শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হন।১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর সিপাহী জনতার বিপ্লব এবং হন। ১৯৭৫ সালের ২৯ আগস্ট জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যু১৯৭৮ সালের ৩ জুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন জিয়াউর রহমান নির্বাচিত। দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯ সালে অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদীদল৩০০টিআসনেরমধ্যে২০৭টিআসনলাভকরে ১৯৮১ সালের ৩০মে জিয়াউর রহমান নিহত ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সামরিক শাসন জারির মাধ্যমে এরশাদের ক্ষমতা গ্রহণ ১৯৮৫ ঢাকায় ১ম সার্ক সম্মেলন।তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন ৭ই মে ১৯৮৬ সালে অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ৩০০টি আসনের মধ্যে ১৫৩টি আসন নিয়ে জয় লাভ করে। ১৯৮৮ ভয়াবহ বন্যা। চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ৩রা মার্চ ১৯৮৮ সালে অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দল ভোট বর্জনকরেজাতীয়পার্টি৩০০টিআসনেরমধ্যে২৫১টিআসনলাভকরে ১৯৯০ সালে গণ অভ্যুত্থানের এরমাধ্যমেএরশাদেরপতন ১৯৯০ সালে বিচারপ্রতি শাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে কেয়ার টেকার সরকারের অধীনে পঞ্চম সংসদ নর্বাচন (২৭ ফেব্রুয়ারী জামায়েত ইসলামের সমর্থনে) বি এন পি সরকার গঠন ১৯৯২ সালে তিনবিঘা করিডোরহস্তান্তর ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী ৬ষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বি এন পি সরকার গঠন এবংস্থায়ীভাবে কেয়ারটেকার সরকারের অধিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিল পাশ ১৯৯৬ সালের ১২ জুন সপ্তম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীরীগের বিজয় ২০০০ সালে ২১ ফেব্রুয়ারী প্রথম আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অস্টম সংসদ নির্বাচনে চার দলীয় জোটের নিরঙ্কশ বিজয়।নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২৯শে ডিসেম্বর ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয় লাভ করে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ৫ই জানুয়ারি ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত হয়। বিরোধী দল বিহীন নির্বাচনে ৩০০টি আসনের মধ্যে ১৫৪টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ৩০ শে ডিসেম্বর ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত হয়। ২৯ ডিসেম্বর রাতে ভোট হয়ে যায়। উক্ত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৫৭টি আসন লাভ করে বিজয় অর্জন করে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ৭ জানুয়ারি, ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনকে বলা হয় ডামি, একতরফ ও ভোটার বিহীন ও প্রতারণামূলক নির্বাচন। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২২২ আসনে বিজয়ী হয়।
মহা দুর্ভিক্ষ
সমৃদ্ধ বাংলাদেশের হাজার বছরের ইতিহাসে মানব সৃষ্ট তিনটি দুর্ভিক্ষ ছিল নজির বিহীন যথা: ১৭৭০ (১১৭৬ বাংলা) ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে খ্যাত পৃথিবীর ইতিহাসে মানব সৃষ্ট সবচেয়ে ভয়াবহ এই দুভির্ক্ষে বাংলার এক তৃতীংশের বেশী লোক মারা যায়নব প্রতিষ্ঠিত ইংরেজ শাসনকে পাকা পোক্ত করাই ছিলো এ দুর্ভিক্ষের কারণ ১৯৪২-৪৩ (১৩৫০ বাংলা) ঞ্চাশের মন্বন্তর নামে খ্যাত এই দুর্ভিক্ষে বাংলার প্রায় ৩৫-৪০ লক্ষ লোক মারা যায় দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে বার্মা হয়ে জাপানী বাহিনীর প্রবেশ ঠেকাতে কৌশল হিসাবে এই ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ বেঁচে নেয় ইংরেজ সরকার ১৯৭৪ বন্যাকে উপলক্ষ করে শাসক গোষ্টির লুটপাট কালোবাজারী, মজুদদারীর মাধ্যমে সৃষ্ট কৃত্রিম এই দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশের বিপুল সংখ্ক লোক মারা যায়।
বিভিন্ন শাসনামালে বাংলাদেশ :
শাসনামল সাল মোট বছর মোট শাসক উল্লেখ্যযোগ্য নূপতি/ শাসক
মৌর্য সাম্রাজ্যের অধিন ৩২৪-১৮৭ ১৩৭ ৫ চন্দ্রগুপ্ত, মৌর্য, বিন্দুসার, অশোক
গুপ্ত শশাঙ্কসহ ৩২০-৬৩৭ ৩১৭ ২২ চন্দ্রগুপ্ত, সমুদ্র চন্দ্রগুপ্ত, ২য় চন্দ্রগুপ্ত, শশাঙ্ক
মাৎস ন্যায় ৬৩৭-৭৫৬ ১১৯ - -
পাল ৭৫৬ -১১২৪ ৩৬৮ ১৪ গোপাল, ধর্মপাল, দেবপাল, ১ম মহিপাল, রামপাল, নারায়নপাল
সেন ১১২৪-১২০৪ ৭৮ ৩ বিজয়ে সেন, বল্লাল সেন, লক্ষণ সেন
খিলজী ১২০৪-১২২৭ ২৩ ৪ বখতিয়ার, শিরীন, ইউয়াজ, খিলজী
দিল্লীর অধিন ১২২৭-১৩৪১ ১১৪ ৩১ তুঘিরিল, বোখারখান,ফিরোজশাহ, ফখরুদ্দিন মোবারকশাহ
ইলিয়াস শাহী ১৩৪২-১৪১৪ ৭১ ৬ ইলিয়াস, সেকান্দর, গিয়াস উদ্দিন আযম
গনেশ-জালালউদ্দিন ১৪১৪-১৪৪১ ২৭ ৪ গনেশ, জালাল উদ্দিন
ইলিয়াসশাহী ২য় দফা ১৪৪২-১৪৮৭ ৪৫ ৫ নাসির উদ্দিন মাহমুদ, রুকন উদ্দিন, বরবকশাহ
হাবশী শাসন ১৪৮৭ -১৪৯৩ ৬ ৪ সাইফুদ্দিন ফিরোজ শাহ, শামসুদ্দিন মোহন, ফখর উদ্দিন
হুসেন শাহী ১৪৯৩-১৫৩৮ ৪৫ ৪ আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
পাঠান ১৫৩৮- ১৫৬৪ ২৬ ৭ শের শাহ শুর, ইসলাম শাহ শূর
কররানী ১৫৬৫- ১৫৭৬ ১১ ৪ সোলায়মান কররানী, দাউদ খান কররানী
মোঘল ১৫৭৬-১৭৫৭ ১৮১ ৩৬ ইসলাম খাঁ, শায়েস্তা খাঁ,মুর্শিদকুলি খাঁ, আলীবর্দি খাঁ, সিরাজদ্দৌলা
ইংরেজ ১৭৫৭- ১৯৪৭ ১৯০ ৪৫ ক্লাইভ, হেস্টিংস, কর্ণওয়ালিস, ডালহোসি,ক্যানিং, হার্ডিঞ্জ, কার্জন
পাকিস্তান আমল ১৯৪৭-১৯৭১ ২৪ ১৮ ফিরোজ খান নুন, শেরে বাংলা, আজম খান, মোনেম খান, টিক্কাখান।
সেদিনের বাংলাদেশ
বাংলাদেশ বর্তমান বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ। ইংরেজ বেনিয়াদের দুইশত বছরের শোষনের নাগপাশে বন্ধি সাম্রাজ্যবাদী ষড়যন্ত্র ও অর্থনৈতিক উপনিবেশিকতার শিকার হয়ে বাংলাদেশ পঙ্গু হয়ে েগেছে। অথচ এক সময় পৃথিবীর অন্যতম ধনী অঞ্চল ছিল। স্বরণাতীত কাল হতে পর্যটকগণ নানা দেশ ভ্রমণ করে সবচেয়ে ধনী দেশ হিসাবে বাংলাদেশকেচিহিৃত করেন। সেই প্রাচীন কালে খৃষ্টপূর্বে রোমান কবি ওভিদ, গ্রীক পন্ডিত টলেমী গ্রীক পর্যটকমেগাস্থিনিস খৃষ্টীয় 4র্থ শতাব্দীতে চৈনিক পর্যটক ফা-হিয়েন 7ম শতাব্দীতে হিউয়েন14শতাব্দীতে ইবনে বতুতা 15শ শতাব্দীতে চৈনিক পর্যটক মাহুয়ান, জিয়াউদ্দিন বারানীসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক পর্যটকদের বর্ণনায় এসব জানা যায়। প্রথম পদার্পনেই সম্রাট হুমায়ুই অবাক বিস্ময়ে এর নাম দেন জান্নাতাবাদ। প্রেমে পড়ে যান এ অঞ্চলের। সেমসয় চীন থেকে মিশর পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের মুসলিমসহ বেশম পন্য মৃৎ ও ধাতব পাত্র মাদুর পাটি; অলঙ্কার, শাঁখ বনজ ঔষধ গুড়সহ অসখ্য পন্য রপ্তানী হতো। এ ধরনের সমৃদ্ধ দেশের অর্থ সম্পদ লুট করেই দরিদ্র পশ্চাতপদ ইউরোপ ধনাঢ়্য ইউরোপে পরিণত হয়েছে। তাদের সভ্যতা বিকশিত হয় আমাদের অর্থ সম্পদ গ্রাস করেই।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন