মানব সভ্যতার উৎকর্ষ সাধনে নারী - Etikathon

Etikathon

দেশ ও সমাজ : আমার চিন্তার বহি:প্রকাশ

Etikathon

test banner

Post Title

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

বুধবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

মানব সভ্যতার উৎকর্ষ সাধনে নারী

বিশ্বে যা-কিচু মহান, সৃষ্টি চির কল্যাণকর

অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধের তার নর।

                                            কাজী নজরুল ইসলাম।

আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নারী কবিতার দুই লাইন উদ্ধত করে মানব সভ্যতার উৎকর্ষ সাধনে নারী নামক লেখাটি শুরু করলাম। উপমহাদেশে বরব যুগের পর এসছে আধা সভ্যযুগ। আধা সভ্যযুগ ছিলো বর্রব যুগ এবং সভ্যযুগের অন্তবর্তী কাল। সভ্যরীতি নীতির এবং নিয়ম শৃংখলার দিকে মানুষ যখন অগ্রসর হচ্ছিল তখনই অন্তবর্তীকাল হিসাবে একটা আধা সভ্যযুগ সুচিত হয়েছিল। এই যুগে নারী জাতিকে ব্যবহার করা হতো ভোগ্য পন্যের মতো।

আধা সভ্য যুগ উত্তরনের সাথে সাথেই নারীর প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির আমুল পরিবর্তন সাধিত হল। মানুষ নারীকে দেখতে পেল মাতা রুপে, ভগ্নীরুপে নয়তো পত্নী হিসেবে অথবা কন্যা হিসেবে এর প্রতিটিতে স্নেহময়ী, মমতা ময়ী, প্রেম ময়ী হিসেবে অনন্য স্বরুপ প্রকাশ পেয়েছে।

সভ্যতার সোবহে সাদেকে মানুষ দুর্বল নারীর মধ্যে মাতৃত্বের মহত্ব আবিস্কার করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছিল। কিন্তু আধুনিক সভ্যযুগে নারীর প্রতি পুরুষের অতিভক্তি প্রকাশ পেতে শুরু করেছে। তাই আজ নারীকে ব্যবহার করা হচ্ছে ব্যবসায়ের পুঁজি হিসাবে। প্রকৃত পক্ষে নারীর প্রতি পুরুষেরা অতি ভালবাসা দেখাতে গিয়ে আবার আধা সভ্যযুগের মতো ভোগ্য পন্যের পর্যায়ে নামীয়ে আনা হয়েছে নারীকে।

একটি জাতীর উন্নতি সমৃদ্ধি ও সভ্যতা বির্নিমানের জন্য চাই একটি শিক্ষিত জনগোষ্টি। আর জনগোষ্টির শিক্ষার জন্য চাই শিক্ষিত মাতৃ সমাজ। তাইতো মহিয়ষী নারী বেগম রোকেয়া সাকাওয়াত সারা জীবন নারী শিক্ষার জন্য আন্দোলন করে গেছেন। তেমনি পারিবারিক, সামাজিক শান্তিশৃংখলার জন্য নারী শিক্ষার পাশাপাশি চাই সুশৃংখল শালীনতা বোধ সম্পন্ন নারী সমাজ।

আমরা একটু চিন্তাশীল হলে বুঝতে পারবো আমাদের দেশে খুন, খারাবী, রাহাজানী, ছিনতাই, ডাকাতী, চাঁদাবাজী, মাস্তানীসহ নানাবিধ অপরাধ মূলক কাজ যারাই করছে তাদের অধিকাংশ বস্তি থেকে উঠে আসা বা বস্তিতে যাদের বসবাস কারন সেখানে নারীদের নেই শালীনতা বোধ নেই সংযম, নেই শ্রদ্ধা বোধ, নেই রক্ষণমীলতা, আর এই গুন গুলো অর্জিত হয় শিক্ষার মাধ্যমে। তাইতো নেপোলিয়ান বলেছিলেন তোমরা আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদেরকে একটা শিক্ষিত জাতি উপহার দেব।

মানুষের জন্মধাত্রী হিসেবে নারী সব সময় শ্রদ্ধার দাবীদার। সে পৃথিবীকে শুধু জন সম্পদেই সমৃদ্ধ করেনি সে মানুষের মাঝে মনুস্যত্বের প্রতিষ্ঠাত্রীও বটে। এই নারীর কন্ঠে ঘুম পাড়ানী গান বের হয়। যা একটি অবোধ শিশুকে ঘুমাতে সহায়তা করে। নারীর শালীনতা সংযম যুগে যুগে আদর্শ জাতীর জন্ম দিয়েছে। আবার নারীর পদস্থল নেই বহু জাতীর ধ্বংস ডেকে এনছে। ইতিহাসে তার ভূরি ভূরি প্রমাণ রয়েছে।

সুতরাং যে, সংযম ও শালীনতা বোধ মানুষকে শ্রদ্ধাষপদ করে মানুষের জন্য মানুষের মনে শ্রদ্ধা বোধ জাগ্রত করে; সেই শালীনতা বোধ রক্ষার জন্য যা কিছু আচার আচরন অত্যাবশ্যকীয় হিসেবে যুগ যুগ ধরে পালিত হয়ে এসেছে তাকে বাদ দিয়ে সমাজে সুশূংখল পরিবেশ বজায় রাখার কথা চিন্তা করা অবান্তর।

নারীর রুপ লাবন্য শরীরের কামনীয়তা মেজাজের নমণীয়তা কন্ঠ স্বরের মাধুর্য্য এ সমস্তই তার পরম সম্পদ। আল্লাহ নারীকে যে সকল অঙ্গ প্রতঙ্গ দিয়েছেন সে সমস্তের মধ্যেই শুধুই নারীত্ব শুদু মাতৃত্বের নম্র পকরনের সন্নিবেম করেছেন। শিশু কাল হতেই মায়ের কোলের উষ্ণ কোমল পরশে আদরে সোহাগে যত্নে শিশুর মাঝে যাতে শারীরিক ও মানসিক ভাবে সভ্য মনোবৃত্তির স্ফুরণ ঘটে তজন্য আল্লাহ নারীকে শারীরিক ও মানসিক ভাবে নম্র করে সৃষ্টি করেছেন।

নারীর শরীরের অন্যন্যা অংশের তুলনায় কোলের অংশকে আল্লাহ অর্ধিকভাবে নমনীয় করে সৃষ্টি করেছেন এবং তাতে শিশু খাদ্যের সংস্থান করে রেখেছেন। যাতে মানব সন্তান সেই বুকের উষ্ণ আবেশে থেকে খাদ্য সংগ্রহ করে দিনে দিনে বেড়ে উঠতে পারে। শুধু তাই নয় নারীর কন্ঠ স্বরকে আল্লাহ মধুর করে দিয়েছেন। যাতে স্বরের কাঠিন্যে সন্তানের মাঝে ভীতির উদ্রেক না করে এবং তা হতে যেন ভীরুতার সঞ্চার না হয়। নারীর মানসিকতায় যদি রুক্ষতা আসে কন্ঠ স্বর যদি শক্ত হয় তবে তা মানব সভ্যতার প্রতি হবে এক ভয়াবহ হুমকি স্বরুপ।

আল্লাহ তায়ালা বলেন তারা যেন মস্তকে আবরণ এবং ব্রক্ষের উপর চাদর পরিধান করে। (সুরা নূর-31) অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন হে নবী আপনি নিজের স্ত্রীগনকে এবং নিজের কন্যা দিগকে এবং মোমেনা নারীগনকে বলুন তারা যেন বাইরে যাবার সময় নিজেদের চাদর গুলি মাথার নিচে টেনে শরীর ঢেকে নেয়। এতে তাদের চিনতে অসুবিধা হবে। যাতে দুষ্ট লোকেরা তাদেরকে উক্ত্যক্ত করতে না পারে। (সুরা আহযাব- 59) এই আয়াত গুলো দ্বারা আল্লাহ তায়ালা মূলত মানব সভ্যতার উৎকর্ষ সাধনে রহস্যের সন্ধান দিয়েছেন।

শিশুর বৃদ্ধির প্রয়োজনে যেমন নারীকে তার নমনীয়তা কমনীয়তা রক্ষা করে চলতে হয় তেমনি কর্তব্য ক্লান্ত মানবতার প্রয়োজন এবং মানব সভ্যতা সংরক্ষণের জন্য ও তা সমান ভাবে প্রয়োজনীয়। আল্লাহ বলেন তাহার একটি নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের মধ্য হতে তোমাদের জন্য রমনীদের সৃষ্টি করেছেন। যাতে তাদের মধ্যে তোমরা মানসিক শান্তি পেতে পার। (সুরা রুম-21) তাই নারীর স্মভাবে নমণীয়তা কমনীয়তা এবং রুপ লাবণ্যকে সে জন্য মানব সভ্যতার সূতিকাগার বলা হয়।

ব্যক্তির সুস্থতা সঠিক ভাবে লালন পালন ও বর্ধন লাভের জন্যে যেমন দেহ ও প্রাণের পারস্পরিক উন্নতিশীল হওয়া আবশ্যক ঠিক তেমনি একটি জাতীর সংস্কৃতি ও সভ্যতার পুরো পুরি সংরক্ষণ একান্তই জরুরী।

নারীকে সংসারের সকল পঙ্কিলতা হতে রক্ষা করে সভ্যতার শ্রীবৃদ্ধি করাই আল্লাহর উদ্দেশ্য সুতরাং নারী শুধু সন্তানের জন্ম ধাত্রীই নয় নারী সভ্যতারই জন্মধাত্রী। সন্তান প্রসবের পর সন্তানের এবং নারীর উভয়ের মঙ্গলের জন্য জনসমাগমের অন্তরালে নির্মল একটি পরিবেশে নির্দিষ্ট থাকে। তেমনি মানব সভ্যতার মঙ্গলের জন্য জন সমাগমের অন্তরালে নির্মল পরিবেশে নারীর শরীরই মানব সভ্যতার সূতিকাগার। সুতরাং সভ্য সুন্দর মানুষ সৃষ্টির জন্য এবং সভ্যতার উৎকর্ষ সাধনের জন্য যা কিছু গুনের প্রয়োজন আল্লাহ নারীর মাঝে সে সব কিছুর সন্নিবেশ করেছে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here