আমাদের নারী আমাদের গর্ব - Etikathon

Etikathon

দেশ ও সমাজ : আমার চিন্তার বহি:প্রকাশ

Etikathon

test banner

Post Title

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

সোমবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

আমাদের নারী আমাদের গর্ব

বিশ্ব প্রকৃতির সব কিছুই নিয়মের অধিন। প্রকৃতি প্রদত্ত নিয়ম নীতিকে অবহেলা করার ঘটনা জগতে বিরল নয়। বরং অহরহ। অবশ্যই তার ভয়াবহ পরিণামও মানব সভ্যতাকে বহন করতে হয়েছে বারবার। প্রাকৃতিক নিয়মেই এই সভ্যতা সম্পর্কে আল্লাহ তা'য়ালা বলেন, ‘বল আমাদের প্রভুই তো প্রতিটি বস্তু সৃষ্টি করে যার যার পথ নির্দেশ করেছেন। (কুরআন)1 'অন্য আয়াতে আল্লাহ পাক বলেন, إِنَّا كُلَّ شَيْءٍ خَلَقْنَاهُ بِقَدَرٍ 'নিশ্চয়ই আমি প্রতিটি বস্তু নির্দিষ্ট পরিমাণে সৃষ্টি করেছি। প্রকৃতির কোন কিছুই স্বীয়পরিমাপ ও পরিসীমার বিন্দুমাত্র ব্যতিক্রম স্বীকার করে না। (সুরা কামার, আয়াত 49)

প্রাকৃতিক নিয়ম নিয়ে যারা চিন্তা করে তাদের জন্য এই প্রাকৃতিক নিয়মটা নর এবং নারীর কর্মক্ষেত্র স্বতন্ত্র প্রমাণের এবং পুরুষের কর্মক্ষেত্রে নারীর অনধিকার চর্চা নিষিদ্ধ করণের মস্তবড় দলিল হয়ে দাঁড়াবে। নারীর গঠন, গাঠন ও প্রকৃতিই প্রমাণদিচ্ছে যে তাদের পুরুষ জগত থেকে আলাদা একজগতে বসবাস করা অপরিহার্য। অধ্যাপক জিওম ফ্রেয়ারের বলেন, মানে তারা নর এবং নারীর মাঝে তৃতীয় এক জীবের প্রতীক হয়ে দাঁড়াবে যার বিশেষ পরিণতি হতাশা, দুর্ভাবনা, স্থায়ী দুগর্তি ও ভুতগ্রস্ত হওয়া বৈ কিছুই নয়।

নারী অনুভূতির দিক দিয়ে দৃষ্টি দিয়ে দেখলে সে শ্রেণী অবশ্যই দয়া ও প্রেম-প্রীতির বাস্তব প্রতীক বলে প্রতীয়মান হয়। যদি তাদের প্রকৃতি বা স্বভাব লক্ষ্য করা যায়। তাহলে দেখা যাবে আত্নোৎসর্গ, পরোপকার ও পূর্ণকাজের দিকেই তাদের ঝোক। এসব গুণ বা স্বভাব বাইরের সংগ্রাম বহুল ক্ষেত্রের জন্য একেবারেই অনুপযোগী। কারণ বাইরের দুনিয়া হচ্ছে প্রতিযোগীতা, দ্বন্দ্ব, টানাটানি, স্বার্থপরতা, বাড়াবাড়ির ক্ষেত্র। তাই দয়া, প্রেম-প্রীতির আঁধার কোমল দেহ ও স্বভাবের নারী কিরূপে তাতে অংশ গ্রহণ করবে। যদি তারা অংশ গ্রহণ করেও তাহলে এই কঠিনতম সংকটে তারা টিকিয়ে উঠতে পারবে না। ফলে তারা যেমন নিজেদের ক্ষতিতে নিমজ্জিত হবে, তেমনি মানব সভ্যতার ও বিপর্যয় ডেকে আনবে।

মানুষের স্বভাবের অনুসারী জীবন ব্যবস্থা। ব্যক্তি ও সমাজ ক্ষেত্রে তার যাবতীয় আদর্শ ও মূল সূত্রের ভিত্তিতে রচিত যে মানুষ সমগ্র বিশ্বের স্বাভাবিক গতি ধারার সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষাকরে চলেবে এবং প্রাকৃতিক নিয়মের উল্টো পথে কখনও পা বাড়াবেনা। আল্লাহ তা'য়ালা প্রতিটি জীবকে সৃষ্টি করার সঙ্গে সঙ্গে তাকে প্রকৃতিগতভাবে এমন পদ্ধতি ও শিক্ষা দিয়েছেন, যা অনুসরণ করে ঐ জীব অস্তিত্ব লাভের পর নিজের কর্তব্য সঠিকভাবে সম্পাদন করার যোগ্য হয়।

আল্লাহ তা'য়ালা বলেন, قَالَ رَبُّنَا الَّذِي أَعْطَىٰ كُلَّ شَيْءٍ خَلْقَهُ ثُمَّ هَدَىٰ 'আমাদের প্রতিপালক প্রত্যেক বস্তুকে বিশেষ ধরনে সৃষ্টি করেছেন এবং তারপর যে উদ্দেশ্যে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে তা সম্পাদন করার পথও বাতলিয়ে দিয়েছেন। (সুরা ত্বোয়াহা, আয়াত 50) খোদার তৈরি পথ পরিহার করে মানুষ নিজের খায়েশের অনুসরণ করে যে পথ তৈরি করে তা বক্র পথ এবং সে পথ ভ্রান্তিপূর্ণ ।

আল্লাহ বলেন, فَإِن لَّمْ يَسْتَجِيبُوا لَكَ فَاعْلَمْ أَنَّمَا يَتَّبِعُونَ أَهْوَاءَهُمْ ۚ وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنِ اتَّبَعَ هَوَاهُ بِغَيْرِ هُدًى مِّنَ اللَّهِ 'আল্লাহর হেদায়াত ব্যতীত যে নিজের নফসের অনুসরণ করে চলে তার চাইতে অধিকতর গোমরাহ আর কে হতে পারে। (সুরা কাছাছ আয়াত 50) গোমরাহীকে বাহৃত: যতই কল্যাণকর মনে করা হোক না কেন প্রকৃত পক্ষে খোদার নির্দেশিত পথ পরিহার করে ও তার নির্দেশিত সীমালংঘন করে মানুষ নিজের উপরই জুলুম করে থাকে। আল্লাহ তা'য়ালা বলেন, وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ ۚ وَمَن يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُ যে ব্যক্তি খোদার নির্দেশিত সীমালংঘন করে সে নিজের উপরই জুলুম করে থাকে। (সুরা ত্বালাক, আয়াত 1) কুরআন বলে যে খোদার সৃষ্টি গঠন প্রকৃতিতে পরিবর্তন সাধন করে খোদা প্রর্বতিত প্রাকৃতিক নিয়ম ভঙ্গ করা শয়তানি কাজ। আল্লাহ বলেন, وَلَأُضِلَّنَّهُمْ وَلَأُمَنِّيَنَّهُمْ وَلَآمُرَنَّهُمْ فَلَيُبَتِّكُنَّ آذَانَ الْأَنْعَامِ وَلَآمُرَنَّهُمْ فَلَيُغَيِّرُنَّ خَلْقَ اللَّهِ ۚ وَمَن يَتَّخِذِ الشَّيْطَانَ وَلِيًّا مِّن دُونِ اللَّهِ فَقَدْ خَسِرَ خُسْرَانًا مُّبِينًا  শয়তান বললো আমি আদম সন্তানদে আদেশ দেবো আর তারা আল্লাহর গঠন প্রকৃতিতে পরিবর্তন সাধন করবে। সুরা নিসা, আয়াত 119)

সুতরাং নারী যদি নিজের গন্ডি পেরিয়ে রাজনীতি, সমাজনীতি, অর্থনীতিসহ নান প্রকার কাজে গা-ভাসিয়ে পার্লামেন্টের সদ হয়ে বসেন, আর বর্তমান পার্লামেন্টের যে অবস্থা তাতে ঝগড়া-ঝাটি, বাড়া-বাড়ি, ও ধস্তা-ধস্তি হয়ে থাকে তাতে ঐ মহিসদস্য যদি গর্ভবতী হয়ে থাকেন তাহলে ঐ বেচারীর কি অবস্থাই না হবে বলা মুসকিল। অথবা ঐ মহিলা সংসদ সদস্য য কোন প্রস্তাব নিয়ে দাঁড়ায়, আর বিরুদ্ধ পক্ষ যদি প্রস্তাবের বিপক্ষে শেম, শেম বলে চিৎকার করতে থাকে তাহলে ঐ মহিল গর্ভের সন্তানের উপর কি এর প্রভাব পড়বে না।

নারীর প্রকৃত স্থান 

মেয়েদের প্রকৃত স্থান এবং আসল কর্মক্ষেত্র হচ্ছে তাদের ঘর। তাদের স্বাভাবিক দায়িত্বও ঠিক তাই। পুরুষ এবং নারী উভয়ই মানুষ। কিন্তু শুধু মানুষ বললে এদের আসল পরিচয় সম্পূর্ণ হয় না। পুরুষরা শুধু মানুষই নয় তারা ‘পুরুষ মানুষ তেমনি মেয়েরাও শুধু মানুষ নয় তারা ‘মেয়ে মানুষ’ মানুষের এ শ্রেণীবিভাগ মানুষের দায়িত্ব কর্তব্য ও কাজকে স্বভাবতই পর্যায়ে ভাগ করে দেয়। একটি পর্যায় হচ্ছে পারিবারিক পরিমন্ডল, আর একটি পর্যায় হচ্ছে বাহির। দুটো সম্পূর্ণ স্বত প্রকৃতির কাজ বিধায় এ দু'ক্ষেত্রের জন্যে এ দু'ধরনের মানুষের প্রয়োজন ছিল যা পুরণ করা হয়েছে নর এবং নারী সৃষ্টি মাধ্যমে। রাসুল সা: বলেন, ‘নারী তার স্বামীর গৃহের লোকদের এবং তার সন্তানদের ব্যাপারে দায়িত্বশীলা। তাদের ব্যাপারে সে জিজ্ঞাসিত হবে।7

পুরুষের দেয়া হয়েছে বাইরের কাজ আর তা সম্পন্ন করার জন্য যে যোগ্যতা কর্মক্ষমতা ও কাঠিন্য Hardship অনমণীয়ত কষ্টসহিষ্ণুতা, দূধর্ষতার প্রয়োজন তা কেবল পুরুষদেরই আছে। আর মেয়েদের আছে স্বাভাবিক কোমলতা, মসৃণতা, অস্ ধর্যশক্তি, সহনশীলতা ও অনুপম তিতিক্ষা। ঘরের অঙ্গনকে সাজিয়ে-গুছিয়ে সমৃদ্ধশালী করে তোলা, মানব বংশের কু কামল লোকদের গর্ভে ধারণ, প্রসব করণ, স্তন্যদান, লালন-পালন করার জন্যে একান্তই অপরিহার্য। ঠিক এজন্যেই ইসলামী শরিয়ত মেয়েদের উপর ঠিক সে ধরনের কাজেরই দায়িত্ব দিয়েছে, যা তাদের ছাড়া আর কারোর সাধ্য নেই। সে কাজ ত ঘন অখন্ড নির্লিপ্ততা ও নিষ্টাপূর্ণ মনযোগ সহকারে সম্পন্ন করতে পারে ইসলাম সেই ধরনের পরিবার ও সমাজ কাঠামো রেছে। নবী করিম সা: আয়েশা (রা:) কে বললেন, 'তোমাদের কর্তব্য হচ্ছে গৃহে অবস্থান করা। এটাই তোমাদের জিহাদ”

নৈতিকতা বিবর্জিত কর্ম

মুলগতভাবে মেয়েদের উপর বাইরের কোন কাজের দায়িত্ব চাপিয়ে দেয়া হয়নি। কিন্তু তাই বলে তারা যদি নিজেদের প কা করে পারিবারিক স্বাভাবিক দায়িত্ব সমূহ পালন করার পরও সামাজিক কাজ করতে সামর্থ হয়, তবে তারও নিষেধ নন্তু এ ব্যাপারে পূর্ণ ভারসাম্য Balance রক্ষা করাই হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ Impotrant এবং অত্যন্ত কঠিন কাজ ৷ জকের নারী ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, সেনাবাহিনীর সদস্য, পুলিশ বাহিনীর সদস্য, নাস, ব্যবসায়ী, সেলসম্যান, নর্ত য়িকা, সমাজনেত্রী, রাজনীতি পার্টির কর্মী, সমাজ সেবিকা, অফিসের ক্লার্ক, কারখানার মজুর, শ্রমিক প্রভৃতি সমাজ ও রাষ্ট্রের সব ক্ষেত্রে ও সর্বকাজে অগ্রসর। কিন্তু এদিকে ঝুঁকে পড়ে তারা তাদের আসল কর্মক্ষেত্র থেকে একেবারে নির্মূল হয়ে গেছে। বিশেষ কোন পুরুষের স্ত্রী হয়ে পারিবারিক দায়িত্ব পালন করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। ফলে নতুন করে এক ভারসাম্যহীন জীবন ধারার সূচনা হয়ে সামগ্রীক ক্ষেত্রে এনে দিচ্ছে এক সর্বাত্বক বিপর্যয়।

প্রশ্ন হচ্ছে নারীরা এসব ক্ষেত্রে ঝাপিয়ে পড়া কি নিতান্তই অপরিহার্য ছিল? এমন অবস্থা তো দুনিয়ায় কোন দেশে কোন সমাজে দেখা দেয়নি যে কর্মক্ষেত্রে পুরুষের অভাব পড়ে গেছে অথবা কর্মক্ষম সব পুরুষেরই কর্মে নিয়োগ সম্পূর্ণ হয়ে গেছে বিষয় নারীদের এ পথে টেনে আনতে হয়েছে। আসলে এসব ক্ষেত্রে নিয়োগ করে একদিকে যেমন কর্মক্ষেত্রে পুরুষ শক্তির অপচয়ের কারণ ঘটানো হয়েছে অপরদিকে নারীদেরকে পুরুষের কাছাকাছি ও পাশাপাশি এনে হাতে হাত ধরে কাজ করতে বাধ্য করে উভয়ের নৈতিক শ্লীলতা বোধটুকুকেও চিরতরে খতম করার ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে। 

নারী আজ ঘর ছেড়ে অর্থোপার্জন কেন্দ্র সমূহে ভীড় জমাচ্ছে। পরিবারের মেয়েরা নিজেদের শিশু সন্তানকে ঘরে রেখে কিংবা যাত্রী যা চাকর চাকরানীর হাতে সপে দিয়ে অফিসে, বিপনী বিতানে উপস্থিত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে দিন রাতের প্রায় সময়ই শিশুরা মায়ের দেহ, মায়া-মমতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তারা প্রকৃত পক্ষে লালিত-পালিত হচ্ছে যাত্রীর হাতে চাকর, চাকরানীর হাতে। যাত্রী আর চাকর, চাকরানীরা যে সন্ধানের মা নয়, মায়ের কর্তব্য সঠিকভাবে পালন করাও তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। অপরদিকে স্বামীও উপার্জনের জন্যে বের হয়ে যাচ্ছে, যাচ্ছে গ্রীও। স্বামী এক অফিসে, স্ত্রী আর এক অফিসে, স্বামী এক কারখানায়, স্ত্রী অপর কারখানায়। স্বামী এক দোকানে, স্ত্রী অপর দোকানে, স্বামী এক জায়গায় ভিন মেয়েদের সঙ্গে পাশাপাশি বসে কাজ করছে। স্ত্রী অপর এক স্থানে ভিন পুরুষের সঙ্গে মিলিত হয়ে রুজী রোজগারে ব্যস্ত হয়ে আছে। ফলে পারিবারিক শান্তি, শৃঙ্খলা, সম্প্রীতি, নির্লিপ্ততা, গভীর প্রেম-ভালবাসা শুন্য হয়ে এরা বাস্তব ক্ষেত্রে অর্থোপার্জনে যন্ত্র বিশেষে পরিণত হয়ে পড়ে।

নারীর উপার্জন

নারীকে যদি পরিবারের সুরক্ষিত ভিত্তি ভূমির উপর প্রতিষ্ঠিত করা যায়, যদি দেখা যায় তার সব অধিকার, সঠিক মর্যাদা যথাযথভাবে ও পরিপূর্ণ মাত্রায় তবে নারীর জীবন সুখ সম্ভারে সমৃদ্ধ হতে পারে। নারী যদি সফল স্ত্রী হতে পারে তবেই সে হতে পারে মানব সমাজের সর্বাধিক মূল্যবান ও সম্মানীয় সম্পদ। তখন তার দরুন একটা ঘর ও সংসারই শুধু প্রতিষ্ঠিত ও ফুলে ফলে সুশোভিত হবে না। গোটা মানব সমাজও হবে যার পরনাই উপকৃত। অনুরূপভাবে যদি নারী মা হতে পারে তবে তার স্থান হবে সমাজ মানবের শীর্ষস্থানে। তখন তার খেদমত করা, তার কথা মান্য করার উপরই নির্ভরশীল হবে ছেলে সন্তানের জান্নাত লাভ। মায়ের পায়ের তলায় রয়েছে সন্তানের বেহেশত।'

নারীকে এ সম্মান ও সৌভাগ্যের পবিত্র পরিবেশ থেকে টেনে বের করলে তার মারাত্মক অকল্যাণই সাধিত হবে। তার কোন কল্যাণই হবে না তাতে। তবে একথাও নয় যে নারী অর্থোপার্জনের কোন কাজেই করতে পারবে না, পারবে কিন্তু স্ত্রী হিসেবে সব দায় দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার পর, তাকে উপেক্ষা করে, পরিহার করে নয়। ঘরের মধ্যে থেকেও মেয়েরা অর্থোপার্জনের অনেক কাজ করতে পারে এবং তা করে স্বামীর দুর্বহ বোঝাকে পারে অনেক খানি হালকা বা লাঘব করতে। কিন্তু এটা তার দায়িত্ব নয়, এ তার স্বামী প্রীতির দৃষ্টান্ত। রাসূল সা: বলেন, 'হ্যা প্রয়োজনে ঘরের বাইরে যাওয়ার অনুমতি তোমাদের জন্যে রয়েছে। এতে কোন সন্দেহ নেই।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাঃ এর স্ত্রী নবী করিম সা: কে বললেন, 'আমি একজন কারিগর মেয়েলোক আমি তৈরি করা দ্রব্য বিক্রি করি এ ছাড়া আমার ও আমার স্বামীর এবং আমার সন্তানদের জীবিকার অন্য কোন উপায় নেই। রাসূল সাঃ বললেন, এভাবে উপার্জন করে তুমি তোমার ঘর সংসারের প্রয়োজন পূরণ করছ, এতে তুমি বিরাট সাওয়াবের অধিকারী হবে।

মানব রচিত ব্যবস্থার দিকে একটু ভাল করে তাকালে দেখা যায় এখানেও বিশেষ ক্ষেত্রে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গকে সকল ক্ষেত্রে পদচারণা করতে দেয়া হয় না। দুনিয়ার বিভিন্ন দেশের বিচারপতিদেরকে রাজনৈতিক দল গঠন, পার্লামেন্টের সদস্যপদ গ্রহণ কিংবা সরকার গঠন করতে দেয়া হয় না। সেনাবাহিনীর লোকদেরকে রাজনৈতিক দল গঠন, পার্লামেন্টের সদস্যপদ গ্রহণ কিংবা সরকার গঠন করতে দেয়া হয় না। এমনিভাবে প্রশাসন যন্ত্রে সমাসীন ব্যক্তিদেরকেও রাজনৈতিক দল গঠন, পার্লামেন্টের সদস্যপদ গ্রহণ কিংবা সরকার গঠন করতে দেয়া হয় না। একটি তাদের জন্য মর্যাদা হানিকর ? মোটেই না। বিচারপতিগণ যদি প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক কর্মকান্ডে জগিয়ে পড়েন তাহলে তাদের উপর ন্যায়পরায়নতার সহিত নিরপেক্ষা বিচার কার্য পরিচালনার যেই মহান কর্তব্য অর্পিত তা বিঘ্নিত হবে বলেই এই ব্যবস্থা। অন্যদিকে সেনাবাহিনীর উপর রয়েছে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌত্বের ও ভৌগলিক সীমানা রক্ষার গুরু দায়িত্ব একনিষ্টভাবে দেশ রক্ষার মহান কর্তব্য পালনের সুযোগ দেওয়ার জন্যই তাদেরকে প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক কর্মকান্ড থেকে দূরে রাখা হয়। এমনিভাবে প্রশাসন যন্ত্রের সমাসীন ব্যক্তিদের বেলায় একই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সুতরাং এমনিভাবে মহিলাদের উপর আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কতকগুলো গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য ন্যাপ্ত করেছেন। এই কর্তব্য গুলোর সঠিক প্রতিপালনের উপর নির্ভর করে মানব বংশের সংরক্ষণ এবং সভ্যতার সুস্থ্য বিকাশ।

মানবের সম্প্রসারণ

তাই মহিলারা জটিল ও জামেলাপূর্ণ কাজ করতে গেলে সৃষ্টিগত বৈশিষ্ট্যের কারণেই মহিলাদের বারবার হোঁচট খেতে হয়। আর তাই যেই সেই সব কাজে জড়িয়ে পড়লে তাদের উপর স্বাভাবিকভাবে অর্পিত গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্যগুলো সঠিকভাবে প্রতিপালন কিছুতেই সম্ভব নয়।

তাই যেই সেই সব কাজে মহিলাদের সম্পৃক্ত করা যেমন শোভনীয় নয় তেমনি সমাজ ও সভ্যতার জন্যও শোভনীয় নয়। স্রষ্টা নারীকে মাতৃত্বের নম্র উপকরণ ও মমতা দিয়ে মানব জাতির সম্প্রসারণ লালন, সংরক্ষণ ও প্রতিপালনের গুরুদায়িত্ব অর্পন করেছেন। আর আবহমান কাল থেকেই নারী ইচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছায় হোক এ দায়িত্ব পালন করে চলছে। মানব জাতির সম্প্রসারণ ও সংরক্ষণের জন্য প্রকৃতির বিধানে চারটি স্তর রয়েছে।

প্রথমত: গর্ভধারণ, দ্বিতীয়ত : স্তন্যদান, তৃতীয়ত: প্রসব, চতুর্থত: লালন-পালন। উপরোক্ত চারটি কারণ বিশ্লেষণ করলে একজন নারীর জীবনের লক্ষ্য উদ্দেশ্য এবং মানব সভ্যতার বিকাশ সাধনের ক্ষেত্রে নারীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। সমাজ, সভ্যতার বিকাশ ও সংরক্ষণের জন্য ক্ষেত্র বিশেষ কঠোরতা নির্মমতার প্রয়োজন দেখা দেয়, এই সব ক্ষেত্রে পুরুষগণই যোগ্য বলে বিবেচিত। আবার যেই সব ক্ষেত্রে কোমলতা নম্রতার প্রয়োজন সেই সব ক্ষেত্রে মহিলাদের উপযুক্ততা স্বীকারযোগ্য
 
পর্ভ ধারণ
গর্ভবস্থায় নারীকে সন্তানের নিরাপত্তা বিধানে সর্বদা যত্নশীল থাকতে হয়। কারণ গর্ভবতী মায়ের এক মুহুর্তের অসাবধানতার ফলে অনাগত সন্তানের জীবনটাই বিপন্ন হতে পারে। মাতৃত্বের আদিম অনুভূতিশীল কোন মা-ই সন্তানের জীবন নিয়ে উদাসীন হতে পারে না। সুতরাং প্রতিটি গর্ভবর্তী মাকেই অনাগত সন্তানের কল্যাণ কামনায় সার্বক্ষণিক সতর্কতা অবলম্বন গর্ভ ধারণ হতে শুরু করে সন্তান প্রসব কাল পর্যন্ত সময়ে প্রতিটি মাকেই শারীরিক ও মানসিক দিক দিয়ে অত্যন্ত সংকটজনক সময় অতিক্রম করতে হয়।

গর্ভধারণ হতে শুরু করে সন্তান প্রসব কাল পর্যন্ত সময়ে প্রতিটি মাকেই শারীরিক ও মানসিক দিক দিয়ে অত্যন্ত সংকটজনক সময় অতিক্রম করতে হয়। প্রকৃতপক্ষে গর্ভ ধারণ হতে সন্তান প্রসবের দীর্ঘ 'নয়' মাস নারীকে অত্যন্ত সংকট, সংশয়ে দিন কাটাতে হয়। এ সময়ে সে সংসারের স্বাভাবিক দায়-দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেতে চায়। গর্ভ ধারিণীর মানসিক উত্তেজনা, দুঃশ্চিঙ্গ-দুর্ভাবনা ও অতৃপ্তির সুপ প্রতিক্রিয়া গর্ভস্থ শিশুর মধ্যেও প্রতিক্রিয়ার সঞ্চার হয়। এ সময় মা যদি মেজাজী হয়, অসৎ কলুষ চিন্তায় মগ্ন থাকে অথবা কঠোর জীবন সংগ্রামের ঘানি টানে তাবে তা অবশ্যই তার গর্ভস্থ শিশুকে প্রভাবান্বিত করবে।

প্রসব
প্রসবকাল নারীর জন্য অত্যন্ত সংকটময় কাল। এ সময় নারীকে জীবন মৃত্যুর সাথে লড়াই করে বাঁচতে হয়। সন্তান ভূমিষ্টকালীন যন্ত্রনার ব্যাপকতা নিয়ে ভাবলে গা শিউরে উঠে। নারী জীবনের এই ট্রাজেড়ী আবহমান কাল ধরেই চলে আসছে।

স্তন্যদান
মায়ের বুকের দুধ শিশুর জন্য মহান আল্লাহ তা'য়ালার এক অপর নেয়ামত। বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় মায়ের বুকের দুধ পান কারানো নিয়ে যে নেতিবাচক ধ্যান-ধারণার সৃষ্টি হয়েছে তার পরিপ্রেক্ষিতে একটু আলোচনা করা উচিত বলে মনে করি। বর্তমান আধুনিকতার এই যুগে স্বচ্ছল লোকদের স্ত্রীগণ নিজেদের শারীরিক সৌন্দর্য ও চাকচিক্য আরও দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য আপন সন্তানদেরকে বঞ্চিত করছে, তাদের বুকের দুধ পান করানো থেকে। পুষ্টি অধ্যাপক ডা: মামুনুর রশিদ বলেছেন, বেড়াল থেকে যেমন ডিপথেরিয়া রোগ হয় না, তেমনি বুকের দুধ খাওয়ালে নারীর সৌন্দর্য বা ফিগার নষ্ট হয় না। অথচ এসব অযৌক্তিক চিন্তা-চেতনা প্রাকৃতিক নিয়মনীতির পরিপন্থি তো বটেই এমনকি শিশুর সঠিক প্রতিপালন নীতিরও খেলাপ। মায়ের বুকের দুধ পুষ্টিকরই শুধু নয় এতে রয়েছে জীবানু প্রতিরোধক উপাদান। যা ভাইরাসের বিরুদ্ধে বড়ই কার্যকর। মায়ের বুকের দুধে রয়েছে ক্যান্সার প্রতিরোধক উপাদান। মায়ের বুকের দুধ পরীক্ষা করে জানা যায় যে বুকের দুধে শুধুমাত্র টিউমার কোষ গুলো ধ্বংস হয়ে যায়, পক্ষান্তরে স্বাভাবিক কোষ গুলো অক্ষত থাকে। বুকের দুধ খাওয়ালে মায়েদের স্তনে ভারিয়ান নামক ক্যান্সারের সম্ভাবনা থাকে না। অন্যদিকে ‘শাল’ দুধ খুবই উপকারী। এই দুধ শিশুর দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ‘শাল’ শব্দটির অর্থ 'নির্যাস'। শালধুধ অর্থ হল ‘মূলধন' ইংরেজিতে একে বলা হয় (Colo strums)। আরবী ভাষায় হয় (Colo strums)। আরবী ভাষায় লা হয় 'আল লিবা' লিবা হল সন্তান উৎপাদনকারী সময়ের প্রথম দুধ। শালদুধের উপকারিতা সম্পর্কে (A guide to Brest feeding) নামক গ্রন্থে বলা হয়েছে, Your first yellow wish milk Colo strums which may not even look like milk to you provides all the nutrition your new born need. The first yellows wish milk the breast makes is good for the baby. Colo strums is rich in vitamins proteins and mineral which the baby need to be healthy strong 

মায়ের বুকের দুধ পান সম্পর্কে কুরআনে পাকে বলা হয়েছে, وَالْوَالِدَاتُ يُرْضِعْنَ أَوْلَادَهُنَّ حَوْلَيْنِ كَامِلَيْنِ ۖ لِمَنْ أَرَادَ أَن يُتِمَّ الرَّضَاعَةَ ۚ وَعَلَى الْمَوْلُودِ لَهُ رِزْقُهُنَّ وَكِسْوَتُهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ ۚ لَا تُكَلَّفُ نَفْسٌ إِلَّا وُسْعَهَا ۚ لَا تُضَارَّ وَالِدَةٌ بِوَلَدِهَا وَلَا مَوْلُودٌ لَّهُ بِوَلَدِهِ ۚ وَعَلَى الْوَارِثِ مِثْلُ ذَٰلِكَ 'যে দুধ পান পূর্ণ করতে চায় তার জন্য স্ত্রীগণ তাদের সন্তানদেরকে পূর্ণ ‘দু’ বছর দুধ পান করাবে। পিতার কর্তব্য যথা বিধি তাদের ভরণ-পোষণ করা। কাউকে তার সাধ্যাতিত কার্যভার দেয়া হয় না। কোন জননীকে সন্তানের জন্য এবং কোন পিতাকে তার সন্তানের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত করা হবে না।(সুরা বাকারা, আয়াত 233) অন্য আয়াতে আল্লাহ তা'য়ালা বলেন, وَوَصَّيْنَا الْإِنسَانَ بِوَالِدَيْهِ حَمَلَتْهُ أُمُّهُ وَهْنًا عَلَىٰ وَهْنٍ وَفِصَالُهُ فِي عَامَيْنِ أَنِ اشْكُرْ لِي وَلِوَالِدَيْكَ إِلَيَّ الْمَصِيرُ 'মা সন্তানকে কষ্টের পর কষ্ট স্বীকার করে গর্ভে ধারণ করে এবং তার দুধ চাড়ানো হয় ‘দু' বছর পর। (সুরা লোকমান, আয়াত 14) ইসলামী চিন্তাবিদগণের মতে কোন শিশুকে তার আপন মাতার দুখ পান কারানই সর্বোত্তম। কারণ আপন মাতার দুধ শিশুর জন্য অপেক্ষাকৃত বেশি উপকারী, অধিক সুস্বাধু এবং আপন মায়ের দুধ পান কারানোর মাঝে মা ও শিশুর নিবিড় মানবিক সম্পর্ক গড়ে উঠে যা মানব সভ্যতার বিকাশ সাধনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। অন্যদিকে মানব শিশুকে মায়ের বুকের দুধ না খাওয়ানোর ফলে শিশুর মাঝে মানসিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় বিভিন্ন রোগ জীবানু দ্বারা আক্রান্ত হয় তাতে শুধু শিশুর ক্ষতি হয় না গোটা মানব সভ্যতারই বিপর্যয় ডেকে আনে।

লালন-পালন
একটি শিশুকে পূর্ণ বয়স্ক একজন মানুষরূপে প্রস্তুত করার পেছনে মায়ের ভূমিকা সীমাহীন। মায়ে ঘনিষ্ট সান্নিধ্য ও ঘনিষ্ট শুষশা ছাড়া কোন মানব সন্তানের পক্ষেই পরিপূর্ণ মাসুষ হিসেবে গড়ে উঠা সম্ভব নয়। একটি মানব শিশু অন্ধকারের আর্বত থেকে আলোর নব দিগন্তে চোখ মেলার মুহুর্ত থেকে মায়ের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। শৈশব অবস্থায় সব কিছুই সে পুলকিত, বিস্ময় নিয়ে দেখতে থাকে। জগতে দৃশ্যমান সব কিছুই তার কাছে নতুনত্বের নেকাব ধরা পড়ে, চমকিত বিস্ময়ে সে ‘দু' চোখ বিস্ফোরিত করে দেখতে থাকে আর অচেনা জগতের পারিপার্শ্বিকতার সাথে গভীর অন্তরঙ্গতায় সে একান্ত হতে থাকে। এমনি করে তার বষয় যত বাড়তে থাকে উপলব্ধি ও অনুভূতির প্রখরতা ও গভীরতা তত বাড়তে থাকে। অভিজ্ঞতা সঞ্চয় ও সম্প্রসারিত হয়, বুদ্ধিতেও পরিপক্কতা আসে এ ক্ষেত্রে মায়েই হচ্ছে শিশুর সার্বক্ষণিক একক বিশ্বস্ত ও সবংসাহা প্রশিক্ষক।

শিশু যদি মায়ের সেবা-শুস্ত্রশা, আদর-সোহাগ, প্রেম-ভালবাসা না পায় তাহলে সমাজ সভ্যতার একটি বিকাশমান সত্তা হিসেবে শিশুর পরিবৃদ্ধি হাজারো জাটিলতায় নস্যাত হয়ে যায়। মানব সন্তান পশু সন্তানের চেয়ে বেশি দুর্বল অবস্থায় জন্মগ্রহণ করে নিজের পায়ে দাঁড়াবার এবং স্বাবলম্বি হওয়ার যোগ্যতা অর্জন একজন মানব সন্তান লাভ করে অনেক দেরিতে। মুখাপেক্ষিতার এ সময়টিতে প্রধানত মাকেই সন্তানের পাশে থাকতে হয় অতন্দ্র প্রহরীর মত।

নারীর ভাষা জ্ঞান

মানব শিশু যখন কথা বলার চেষ্টা করে তখন তার মুখে ভাষা তুলে দেয়ার দায়িত্ব মাকেই পালন করতে হয়। মানব সন্ধান দেহ মমতার কাঙাল সেইসব সন্ধান দেহ মমতার উষ্ণতায় বেড়ে উঠে তারা মানসিক ভারসাম্যতা অর্জন করে, সন্তান এই স্নেহ মমতা দেওয়ার জন্য প্রয়োজন মায়ের নিরবচ্ছিন্ন সহচার্য। সমাজ ও সভ্যতা মানুষের জন্য। আর মানুষই যদি না থাকে তাহলে সমাজ ও সভ্যতা টিকিয়ে রাখা এবং এগুলোর শ্রীবৃদ্ধি করা নিষ্প্রোয়জন। সুতরাং মানব বংশের ধারাবাহিকতা সংরক্ষণ করা একটি বেহুদা কাজ এবং কালের এক পর্যায়ে পৌঁছার পর এই ধারাবাহিকতা রক্ষাকরা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াতে বাধ্য, অন্যথায় বলা যায় সমাজ ও সভ্যতার অস্তিত্ব, ক্রমবিকাশা এবং ক্রমোন্নতি পূর্বশর্ত হচ্ছে মানব বংশের ধারাবাহিকতা। সমাজ ও সভ্যতার ধারাবাহিকতা তখনই নিশ্চিত করা সম্ভব যখন মহিলাগণ তাদের মাতৃত্বের দায়িত্ব পালন করেন। শিশুর লালন- পালন তাদের ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য সহচার্য দেন এবং সন্তানদেরকে সমাজ ও সভ্যতার কর্মদাররূপে সমাজ অঙ্গনে প্রেরণ করে মহিলাগণ সমাজ ও সভ্যতার ধারাবাহিকতা সংরক্ষণের পূর্বশর্ত পূরণ করে থাকে।

নারীর ধৈর্য শক্তি

যে মেয়ে লোক সুগন্ধি (আতর, গোলাপ, সেন্ট) ইত্যাদি লাগিয়ে ঘরের বাইরের লোকদের কাছে যাবে এ উদ্দেশ্যে যেন তারা সে সুগন্ধি শুঁকতে পারে তবে সে ব্যাভিচারী হিসেবে গণ্য হবে।৩০ গৃহাভ্যান্তরকে একটি কারখানার সাথে তুলনা করা হলে দেখা যায় যে, সেখানে একদিকে সভ্যতা তৈরি হচ্ছে অন্যদিকে তার মেরামতির কাজও হচ্ছে। মা হিসেবে নারীর কোলে যে সন্ধান কর্মঠ হয়ে উঠে সেই সন্ধানই পূর্ণ বয়সে জাগতিক কর্তব্যের নিষ্পেষণে ক্লান্ত শরীরে ঘরে যখন অবসন্ন হয়ে পড়ে তখন আবার নারী স্ত্রী হিসেবে সব ক্লান্তি প্রশমন করে থাকে। সুতরাং শিশু প্রবৃদ্ধির প্রয়োজনে যেমন নারীকে তার নমনীয়তা রক্ষা করে চলতে হয় তেমনি কর্তব্য ক্লান্ত মানবতার প্রয়োজন নয় শুধু মানব সভ্যতার সংরক্ষণের জন্যও তা সমানভাবে প্রয়োজন।

অন্যাদকে নারীকে আল্লাহ অত্যন্ত ধৈর্ষশীল হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। যাতে বারে বারে তার শিশু সন্তানের জ্বালাতনে অসহ্য না হয়। যদি অসহ্য হয়ে ধমক দেয় বা রাগান্বিত হয় তাহলে তাহা সমাজ ও সভ্যতার জন্য হুমকি। দক্ষিণ পশ্চিম ইংল্যান্ড ভিত্তিক গবেষকদের গবেষণায় দেখা যায় পুরুষদের তুলনায় নারীর ধৈর্যসীমা বেশি। পুরুষের বৈষসীমা সর্বোচ্চ ৭২ মিনিট। গবেষণায় দেখা যায় নারী এবং পুরুষ একসঙ্গে কোন কাজ করলে ৭২ মিনিট পর্যন্ত তার নির্বিবাদে কাজ করতে পারে। এ সময়ের পরই উভয়ের মাঝে শুরু হয় বাদানুবাদ। কারণ এরপর পুরুষের আর ধৈর্য রাখতে পারে না। কিন্তু নারী আরও ২৮ মিনিট কাজ চালিয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ নারীর ধৈর্য ২৮ শতাংশ বেশি। সুতরাং নারীর স্বভাব নমনীয়তা, কমণীয়তা, ধৈর্যশীলতা এবং রূপ লাবণ্যকে মানব সভ্যতার সূতিকাগর হিসেবে গণ্য করা হয়।

সন্তানের শিক্ষা

সন্তানদের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনের পর তাদেরকে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে আধুনিক শিক্ষার হাতে সোপর্দ করায় তারা প্রকৃত মানুষ হিসাবে গড়ে না। আজ যে ধরনের মন্ত্রী, গভর্ণর, ডেপুটি কমিশনার, তহশীলদার, বিচারক, আইনজীবী, শিল্পপতি, প্রকৌশলী, স্থপতি, ব্যবসায়ী, অধ্যাপক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, শ্রমিক, কৃষক ইত্যাদি গড়ে উঠল তারা খোদভীরু নয়। নারীর জীবন শুধু রান্না-বান্না, সেলাই বুনন এবং ঘর পরিষ্কার রাখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সে মানুষ গড়ার করাখানার দায়িত্বশীল, নারী যদি তার এই পবিত্র পদের মর্ম বুঝতে পারে, তাহলে মানুষ গড়ার সাথে সাথে ইসলামের অনুসারী ব্যক্তি বর্গের অভাব হবে না, বর্তমানে মুসলিম মহিলারা যদি ইসলামের জীবন পদ্ধতি ভালোভাবে বুঝে শুনে তার উপর ঈমান এনে পুরুষের কাজের অংশিদার হতে চান, তাহলে তাদের সবচেয়ে বড় কাজ হল নতুন বংশধরদের পূণর্গঠনে সর্বতোভাবে মনোনিবেশ করা। আর এ মনোনিবেশ এর লক্ষ্য হবে, আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়নকারী, পবিত্র কোরআনের উপস্থাপিত সময় জীবন ব্যবস্থাকে হৃদয়ঙ্গমকারী, দুনিয়ার পরিবর্তে আখেরাতের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধকারী, রসূল (সা:) ও সাহাবায়ে কেরামের চরিত্র ধারণকারী এবং উচ্চ পদ ও বেতনের পরিবর্তে আল্লাহর সন্তুষ্ট্যিকে লক্ষ্য হিসাবে গ্রহণকারী সৈনিকদের একটি বিরাট বাহিনী গড়ে তোলা, তাহলে সমাজ থেকে যেমন অনৈসলামিক কার্যকলাপ দূরিভূত হবে তেমনিভাবে পরিবারের পরিবেশ ও আবহ পাল্টে যাবে। 

মহিলাদের চাকরি 

মহিলাদের চাকরি করা ও অর্থোপার্জনের তৎপরতায় নিয়োজিত হওয়া ইসলামে নারীর আসল পদমর্যাদা ও অবস্থানের সাথে মাননসই নয়। পরিবারের ভিত্তি দুর্বল করে দিয়ে যত্ন ও আদরের সাথে সন্তানের লালন-পালনের দায়িত্বকে উপেক্ষা করে নারীর কেবল গৃহের আবাস ও সাজ সজ্জার উপকরণ বৃদ্ধির উদ্দেশ্য অর্থ-উপার্জনের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়া মোটেই সঠিব নয়। পরিবার ও সন্তানদের ক্ষতির বিনিময়ে সংসারের আয় বাড়ানোতে লোকসান ছাড়া আর কিছু পাওয়া যায় না। নারীর ঘর ছেড়ে আয় রোজগারের চেষ্টা করা শুধু সেই অবস্থায় সমর্থনযোগ্য, যখন হয় সে নিজে অনিবার্য প্রয়োজনের চাপে তা করতে বাধ্য হয় এবং তার অভিভাবক না থাকা। যে সমাজে নারীরা ব্যাপক হারে চাকরি করতে এগিয়ে আসে, সেখানে মানসিক অর্থনৈতিক, নৈতিক, সামাজিক ও যৌন দিক দিকে রকমারি বিকৃতি ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হতে থাকে। চাকরিজীবী মহিলাদে দাম্পত্যজীবনে অভ্যন্তরীণভাবে অত্যন্ত তিক্ত হয়ে থাকে।

রুশ বিপ্লব
1917 সালে কম্যুনিষ্টদের (বলশেভিক) নেতৃত্বে ঘটেছিল রুশ বিপ্লব। বিপ্লবীরা বিশেষভাবে বলেন, নারীদের সমানাধিকারের কথা। নারীদের এরা উৎসাহিত করেন গৃহকর্ম পরিহার করে বাইরে কলকারখানা ও রাষ্ট্রীয় কাজে যোগ দিতে। কারণ, কম্যুনিষ্টদের অন্যতম চিন্তাগুরু ফ্রেডরিক অ্যাঙ্গেলস বলেছিলেন, নারী স্বাধীনার জন্য নারীদের গৃহকর্ম  ছেড়ে দিয়ে বহির্বিশ্বে কাজে যোগ দিতে। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সোভিয়েত  ইউনিয়ন ভয়ঙ্কর ক্ষতি হয়। মারা যায় অনেক মানুষ। অভাদ দেখা দেয় জনশক্তির। তখন কম্যুনিষ্টরা বলতে থাকনে, নারীদের মা হতে হবে। তাদের প্রকৃত পরিচয় ফুটে ওঠে মাতৃত্বে। তদের পালন করতে হবে সন্তান। নইলে উন্নত স্বাস্থ্যবান কর্মনিপুণ জনশক্তির অভাব ঘুচাবে না।
 
১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে গেছে। শোনা যাচ্ছে রাশিয়া ও তার সাথে যুক্ত থাকা ১৪টি রিপাবলিকের নারীরা এখন গৃহমূখী হতে চাচ্ছেন। তারা গড়তে চাচ্ছেন সুখী পরিবার। তারা চাচ্ছেন শান্তিতে ঘরকন্না করতে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে বাংলাদেশে থাকা কম্যুনিষ্ট পার্টি বলেন, নারীদের ঘর সংসারে আটকে থাকা চলবে না। কারণ, তাহলে নারীদের করতে হবে পুরুষের বশ্যতা স্বীকার। বাংলাদেশের কম্যুনিটিরা বলছেন, ইসলাম নারী স্বাধীনতার পরিপন্থী। কারণ, ইসলাম চায় নারীরা থাক গৃহমূখী হয়ে। এক কথায় গৃহবন্ধী হয়ে। তারা ঘরের কাজকে দেখছেন ছোট করে। কিন্তু বাইরের কাজকে দেখছেন বড় করে। এ ক্ষেত্রে তাদের দৃষ্টি ভঙ্গির সাথে বাংলাদেশের ইসলামপন্থী দলগুলোর মাতদর্শের দেখা দিচ্ছে সঙ্ঘাত। (ইসলামে নারীর অবস্থান- এবনে গোলাম সামাদ, নয়াদিগন্ত ঢাকা,  ২৩ এপ্রিল ২০১৩) 

আসলে ইসলামে নারীর বিশেষ মূল্য দেয়ার চেষ্টা হয়েছে। একসময় সমাস্ত আরব পরিবারে মেয়ে জন্মালে তাকে মেরে ফেলা হত। কিন্তু ইসলামে এভাবে মেয়ে শিশু নিধনের বিরোধিতা করা হয়েছে। কুরআন বলা হয়েছে, এভাবে মেয়ে শিশু নিগমকে চিহ্নিত করা হয়েছে খুবই পাপকাজ হিসেবে। সাধারণভাবে বলা হয়েছে মেয়ে শিশু জন্মালে মুখ কালা কর  না। (সুরা নাহল, আয়াত 58-59)  ইসলামী মতে, স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানের ভরণপোষণ করতে বাধ্য। যেহেতু স্বামীর আছে সাধারণত সংসার চলে, তাই স্বামীকে দেয়া হয়েছে জীবউপর কিছুটা কর্তৃত্ব করার অধিকার। কিন্তু এ অধিকার সীমাহীন নয়। কারণ, কুরআন শরিফে বলা হয়েছে, নারীদের পৃথকভাবে সম্পত্তি রাখার অধিকার আছে। এই সম্পদের ওপর স্বামীর কোন অধিকার নেই।

কুরআন শরিফে বলা হয়েছে,  إِنَّ الْمُسْلِمِينَ وَالْمُسْلِمَاتِ وَالْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَالْقَانِتِينَ وَالْقَانِتَاتِ وَالصَّادِقِينَ وَالصَّادِقَاتِ وَالصَّابِرِينَ وَالصَّابِرَاتِ وَالْخَاشِعِينَ وَالْخَاشِعَاتِ وَالْمُتَصَدِّقِينَ وَالْمُتَصَدِّقَاتِ وَالصَّائِمِينَ وَالصَّائِمَاتِ وَالْحَافِظِينَ فُرُوجَهُمْ وَالْحَافِظَاتِ وَالذَّاكِرِينَ اللَّهَ كَثِيرًا وَالذَّاكِرَاتِ أَعَدَّ اللَّهُ لَهُم مَّغْفِرَةً وَأَجْرًا عَظِيمًا ভাল কাজের জন্য নারী ও পুরুষ উভয়ই আল্লাহর কাছে সমভাবে পুরষ্কৃত হবে। এ ক্ষেত্রে কোন পার্থক্য করবেন না। (সুরা আহযাব, আয়াত 35) অর্থাৎ নারী-পুরুষের মধ্যে পার্থক্যকে কখনোই বিরাট করে তোলার চেষ্টা করা হয়নি। নারী পুরুষদেরকে দেয়া হয়েছে ভাল কাজে সাহস । বলা হয়েছে, মর্তে যারা ভাল কাজ করবে, তারা সবাই বেহেশতে যাবে। মানুষের মর্ত্যের কাজ দিয়েই বিবেচনা করা হবে কে বেহেশতে যাবে, আর কে দোজখে। মর্তের জীবনকে ছোট করে দেখা হয়নি ইসলামে।

ইসলামে বলা হয়েছে সম্পদ মানুষের জন্য। মানুষ সম্পদের জন্য নয়। আমাদের দেশের বাম বুদ্ধিজীবীরা মনে করেন যে, ইসলম হচ্ছে একটি দক্ষিণপন্থী ধর্ম। ইসলাম চায় সম্পদের সামাজিকীকরণ। তবে ইসলামে সম্পদের ব্যক্তিগত মালিকানাকে অস্বীকার করা হয়নি। কারণ, তা হলে মানুষের কর্মোদ্যম ব্যাহত হবার সম্ভবনা থাকে। কুরআন শরিফে বলা হয়েছে,  وَكَذَٰلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِّتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ  মুসলমানদের হতে হবে মধ্যমপন্থী। (সুরা বাকারা, আয়াত 143) বলা হয়েছে জীবনের কোন ক্ষেত্রেই বাড়াবাড়ি করা যাবে না। ইসলামের এ চিন্তারসাথে মিল থাকতে দেখা যায় প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটলের (৩৮৪-৩২২ খ্রিষ্টপূর্ব) অ্যারিস্টটলের মতে, ভাল ও মন্দের মধ্যে পার্থক্যটা অনেকটাই হল পরিমাণগত। যেমন, কাপুরুষ প্রায় কোন বিপদের ঝুঁকি নেয় না। কিন্তু যে হঠকারী সেঝুঁকি নেয় অতি মাত্রায়। প্রকৃত সাহসী লোকের অবস্থান হল কাপুরুষ ও হঠকারীর মাঝামাজি। কারণ, সে ঝুঁকি নেয় সঠিক মাত্রায়। يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لَا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ وَلَا تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ إِلَّا الْحَقَّ ۚ ইসলাম জীবনের সব ক্ষেত্রে মধ্যপন্থী হতে বলা হয়েছে। (সুরা নিসা, আয়াত 171) এমনকি ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করতেও নিষেধ করা হয়েছে।  ادْعُ إِلَىٰ سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ ۖবলা হয়েছে মানুষকে ধর্মের বাণী যুক্তি দিয়ে বোঝাতে। (সুর নাহল, আয়াত 125)

নারী পুরুষের পার্থক্য নিয়ে আলোচনা চলছে বর্তমানে। বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার (২০০৯-২০১৪) বলছে যে, দেশে ইসলামপন্থী দল ক্ষমতায় এলে নারীরা সুবিচার পাবে না। কিন্তু বর্তমান শাসন ব্যবস্থায় কী নারীরা সুবিচার পাচ্ছে ? বাংলাদেশের আয়ের একটা বড় উৎস হচ্ছে বিদেশে তৈরি পোশাক রফতানি (শতকরা ৭৬ ভাগ) তৈরি পোশাক শিল্পে নিয়েজিত আছেন প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক, যাদের শতকরা ৮০ ভাগ হলো নারী শ্রমিক। এদের কাজ করতে হচ্ছে খুবই বিপজ্জনক অবস্থার মধ্যে। এরা হচ্ছে যৌন নিপীড়নের শিকার। সরকার এ বিষয়ে থাকছে উদাসীন। আমরা বিদেশে নারী শ্রমিক পাঠাচ্ছি যারা সেখানে গিয়ে করবে চাকরানীর কাজ। জানি না সেখানে গিয়ে তারা কতটা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে তা বলা মুশকিল।

আমরা পর্যটন শিল্পের উন্নতি ঘটাতে চাচ্ছি। ভাবছি পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ঘটিয়ে যথেষ্ট আয় করার কথা। কিন্তু পর্যটন শিল্প বাড়াতে গিয়ে অনেক দেশেই ঘটছে গণিকাবৃত্তির প্রসার। হচ্ছে সমাজ জীবনের ক্ষতি। ইসলামপন্থী দলগুলো নারীদের দারিদ্র বিমোচন চায়; কিন্তু ঠিক এভাবে নয়। অনেক কাজ আছে, যা নারীরা ঘরে বসেই করতে পারেন। যেমন সুইজারল্যান্ডের নারীরা ঘরে বসে বসেই তৈরি করেন হাতঘড়ির নানা অংশ। কোম্পানীর লোক বাড়ি বাড়ি এসে তাদের কাজ থেকে ঘড়ির ওই সব অংশ কিনে নিয়ে বানায় সম্পূর্ণ ঘড়ি। একসময় এদেশের মুসলিম মেয়েরা বাড়িতে সেলাই কাজ করে অর্জন করেছেন অর্থ। তারা বানিয়েছেন সুজনি, বানিয়েছেন নকশিকাঁথা। খ্যাতি পেয়েছে দেশ বিদেশে নারীরা অনেক কিছু ঘরে বসেই চিরচেনা পরিবেশে করতে পারেন যা বাড়াতে পারে তাদের আয়। যেমন, তারা কাজ পারেন মৌমাছি চাষ; চাষ করতে পারেন গো পালন। ঘি মাখন তৈরি। কুটির শিল্পে তারা রাখতে পারেন বিরাট অবদান। বলা হচ্ছে, ইসলামপন্থী দলগুলো দেশে নারী নেতৃত্বের বিরোধী। কিন্তু এ পর্যন্ত কোন ইসলামপন্থী দল বলেনি যে, নারীর ভোটাদিকার কেড়ে নেবার কথা বলা হচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নারী নেতৃত্ব বিরোধী। আসলে তারা নারী নেতৃত্বের কিভাবে বিরোধী সেই বিষয়টি নিয়ে তেমন কোন আলোচনা না করে ঢালাওভাবে বলা হচ্ছে নারী নেতৃত্ব বিরোধী। অথচ জামায়াত তাদের গঠনতন্ত্রে ৩৩ শতাংশ নারীর জন্য বরাদ্ধ রেখেছেন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here